ED-কে বড় তথ্য জানিয়ে এলেন পার্থর জামাই? বয়ান রেকর্ড হতেই শুরু হয়ে গেলো শোরগোল

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের জামাই কল্যাণময় ভট্টাচার্যের বয়ান রেকর্ড করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সূত্রের খবর, এই বয়ানে কল্যাণময় জানিয়েছেন কীভাবে এই দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে এবং কত কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। তাঁর এই স্বীকারোক্তি মামলার তদন্তে নতুন মোড় আনতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

ট্রাস্টের মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগ

ইডির দাবি, কল্যাণময় তাঁর লিখিত বয়ানে স্বীকার করেছেন যে, তিনি শ্বশুর পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নির্দেশে ‘বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’-এর অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। এই ট্রাস্টটি পার্থর প্রয়াত স্ত্রী বাবলি চট্টোপাধ্যায়ের নামে গঠিত হয়েছিল। ট্রাস্টের মাধ্যমে একটি জমি কেনা এবং স্কুল তৈরির কথা জানিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। ইডির অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির কালো টাকা এই ট্রাস্ট ও কল্যাণময়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে সাদা করা হয়েছে।

চার্জশিটে কল্যাণময়ের নাম

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কল্যাণময় ভট্টাচার্য ও তাঁর অধীনস্থ কয়েকটি সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ইডি আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে। এই মামলার বিচারও শুরু হয়ে গেছে। চার্জশিটে বলা হয়েছে, দুর্নীতির টাকা বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে লন্ডারিং করা হয়েছে, যার মধ্যে ‘বাবলি চ্যাটার্জি মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট’ অন্যতম। কল্যাণময় তাঁর বয়ানে জানিয়েছেন, এই সব কার্যকলাপে তিনি পার্থর নির্দেশেই জড়িত ছিলেন।

পার্থর বর্তমান অবস্থা

নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইডির মামলায় জামিন পেয়েছেন। তবে সিবিআইয়ের সমান্তরাল তদন্তে দায়ের করা মামলায় জামিন না পাওয়ায় তিনি এখনও জেলে রয়েছেন। ২০২২ সালের জুলাই মাসে পার্থ ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ইডি। অর্পিতার দুটি বাড়ি থেকে প্রচুর নগদ টাকা ও সোনা উদ্ধার হয়েছিল, যা এই মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

তদন্তে নতুন মোড়

কল্যাণময়ের বয়ানে দুর্নীতির পরিমাণ ও প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উঠে আসায় তদন্তকারী সংস্থা এখন আরও কঠোরভাবে মামলাটির বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্রের দাবি, এই বয়ান পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলাকে আরও জোরদার করতে সাহায্য করবে। ইডি এবং সিবিআইয়ের সমন্বিত তদন্তে এই দুর্নীতির জালে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থার নামও প্রকাশ্যে আসতে পারে।

প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলা বাংলার রাজনৈতিক ও শিক্ষা ক্ষেত্রে বড় ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। কল্যাণময়ের বয়ানের পর এই মামলার পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নিয়ে সবার নজর রয়েছে আদালতের উপর।