মার্কিন ডলার ছাড়াই এশীয় দুই মুদ্রায় কয়লা কিনছে ভারত

মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে এশিয়ার দুটি দেশের মুদ্রায় রাশিয়া থেকে কয়লা কিনছে ভারত। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ঘিরে পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বিকল্প মুদ্রা হিসেবে হংকং ডলার ও দিরহাম ব্যবহার করছে দেশ।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের কাস্টমস নথি ও বিভিন্ন সূত্র থেকে দুটি মুদ্রার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে ভারত কয়লা কেনা অব্যাহত রেখেছে।

এর আগে, রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, রাশিয়ার কয়লা কিনতে চীনের ইউয়ান ব্যবহার করছে ভারত।

তবে এবার আরব আমিরাতের দিরহাম ও হংকংয়ের ডলার ব্যবহারের বিষয়টিও সামনে এলো। মার্কিন ডলার বাদ দিয়ে অন্যান্য মুদ্রায় রাশিয়ার সঙ্গে ভারতসহ অন্যান্য দেশের বাণিজ্য কৌশলের কারণে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার আঁচ অনেকটা কম টের পাচ্ছে রাশিয়া। বিনিময়ে কাঁচামাল কেনার সময় ভারতকে অন্যান্য দেশের চেয়ে বেশি ছাড় (ডিসকাউন্ট) দিচ্ছে রাশিয়া। জুনে ডলার ব্যতীত অন্য দেশের মুদ্রা ব্যবহার করে ৭ লাখ ৪২ হাজার টন রুশ কয়লা কিনেছে দেশ।

ঐ মাসে সর্বমোট ১.৭ মিলিয়ন টন কয়লা আমদানি করে নয়া দিল্লি। এরমধ্যে প্রায় ৪৪ শতাংশই ডলারের বদলে অন্য মুদ্রা দিয়ে কিনেছে তারা।

দেশের স্টিল উৎপাদনকারী ও সিমেন্ট উৎপাদনকারীরা আরব আমিরাতের দিরহাম, হংকংয়ের ডলার, চীনের ইউয়ান ও ইউরো ব্যবহার করে কয়লা কিনেছে।

জুনে ভারত ডলার ছাড়া যে পরিমাণ কয়লা এনেছে তার মধ্যে ৩১ ভাগের মূল্য পরিশোধ করেছে চীনের ইউয়ান দিয়ে, ২৮ ভাগ হংকংয়ের ডলার দিয়ে। তাছাড়া ইউরো ও আমিরাতের দিরহাম দিয়ে বাকিটা শোধ করেছে।

জুন মাসে রাশিয়ার কয়লা কিনতে যে পরিমাণ ডলার-বহির্ভূত মুদ্রা ব্যবহার করা হয়েছে, তার ৩১ শতাংশ ছিল ইউয়ান ও ২৮ শতাংশ ছিল হংকং ডলার। ইউরো ব্যবহার করা হয়েছে ২৫ শতাংশের কম এবং আমিরাতি দিরহাম ব্যবহার হয়েছে প্রায় ছয় ভাগের এক ভাগ।

রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) ভারতীয় টাকাতে পণ্যের মূল্য পরিশোধের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। এ পদক্ষেপে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের নিজস্ব মুদ্রায় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির পাবে বলা আশা করা হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ভারতীয় পণ্য আমদানিতে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় মার্কিন ডলার। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সিংহভাগও ডলারেই রাখা হয়। তবে মার্কিন ডলার ব্যবহার করে রাশিয়ার কয়লা কেনা ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য বেআইনি নয়।

উল্লেখ্য, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধকে ঘিরে পশ্চিমাদেশগুলো রাশিয়ার ওপর দফায় দফায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞার ফলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা মার্কিন ডলারের বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে কেউ পণ্য কিনতে পারছিল না। তবে রাশিয়া মার্কিন ডলার ছাড়া অন্য মুদ্রায় তাদের পণ্য কিনলে ছাড় মূল্যে তেল, গ্যাসসহ সব পণ্য বিক্রির ঘোষণা দেয়। আর সেই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে ভারত ও চীন।