শান্তনুকে দলে ফেরাচ্ছে TMC? দুই পক্ষের গতিবিধিতে মিলছে জোরাল ইঙ্গিত

বছরের শুরুতেই দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সাসপেন্ড হয়েছিলেন প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ও চিকিৎসক নেতা শান্তনু সেন। এবার কি তিনি দলে ফিরছেন? গত শনিবার তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভার্চুয়াল বৈঠকে শান্তনুর উপস্থিতি এমন জল্পনাকেই উসকে দিয়েছে। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে শান্তনুকে পুনর্বাসনের সম্ভাবনা নিয়ে দলের অন্দরে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অভিষেকের বৈঠকে শান্তনু, আরাবুল অনুপস্থিত

গত শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার নেতার সঙ্গে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক করেন। এই বৈঠকে অংশ নেন শান্তনু সেন, যিনি চলতি বছরের জানুয়ারিতে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে সাসপেন্ড হয়েছিলেন। একই অভিযোগে সাসপেন্ড হওয়া ভাঙড়ের নেতা আরাবুল ইসলাম এই বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন। শান্তনুর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই তিনি সংক্ষিপ্ত জবাবে বলেন, “দলের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।” তবে দলের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, অভিষেকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত শান্তনু সাসপেনশনের মধ্যেও দলীয় কার্যক্রমে সক্রিয় রয়েছেন। বিশেষ করে ডায়মন্ড হারবারের ‘সেবাশ্রয়’ কর্মসূচিতে তাঁর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা লক্ষ্য করা গেছে।

হাসপাতাল দুর্নীতি ইস্যুতে সরব হয়েছিলেন শান্তনু

শান্তনু সেনের সাসপেনশনের পেছনে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। গত বছর আরজি কর হাসপাতালে এক চিকিৎসকের ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলনের সময় শান্তনু প্রকাশ্যে সরব হন। তিনি হাসপাতালে দুর্নীতি ও অব্যবস্থার অভিযোগ তুলে তৎকালীন প্রিন্সিপাল সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলেন। শান্তনু বলেছিলেন, “সন্দীপ ঘোষের হাত ধরে আরজি করের অব্যবস্থার কথা আমি আগেও বলেছি। আমি আন্দোলনে মদত দিইনি, তবে এমন স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলনে কেউ মদত দিতে পারে না।” তিনি দাবি করেছিলেন, তৃণমূলের বিরুদ্ধে তিনি কিছু বলেননি। তবে তাঁর এই অবস্থান দলের অফিসিয়াল লাইনের বিরুদ্ধে গিয়েছিল বলে মনে করা হয়। ফলে তাঁকে দলের মুখপাত্র পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরে তৃণমূলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি তাঁকে সাসপেন্ড করে।

দলে ফেরার সম্ভাবনা ও জল্পনা

শান্তনুর স্ত্রী কাউন্সিলর কাকলি সেনও আরজি কর আন্দোলনের সময় জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। এই ঘটনার পর থেকে শান্তনু দলের মূল স্রোত থেকে দূরে থাকলেও, অভিষেকের সঙ্গে তাঁর নৈকট্য এবং ডায়মন্ড হারবারে সক্রিয়তা তাঁর প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনাকে জোরালো করছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটের আগে দলের অভ্যন্তরীণ শক্তি সংগঠিত করতে শান্তনুর মতো অভিজ্ঞ নেতাকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে দলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও ঘোষণা আসেনি।

শান্তনু সেনের এই প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত কেবল তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গতিশীলতারও একটি আভাস দিচ্ছে। আগামী দিনে দলের সিদ্ধান্ত কোন দিকে যায়, সেটাই এখন দেখার।