OMG! মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় ওড়নায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী ১২ বছরের ছাত্রী, চাঞ্চল্য ঘটনায়

মোবাইল কেড়ে নেওয়ায় অভিমানে ১২ বছরের নাবালিকার আত্মহত্যা, শোকে স্তব্ধ হরিরামপুর
মার্চ ১৭, ২০২৫, হরিরামপুর: মোবাইলের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তির জন্য মেয়েকে শাসন করতে গিয়ে অকল্পনীয় পরিণতির মুখোমুখি হলেন এক মা। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার কারণে অভিমানে ১২ বছরের নাবালিকা মাসারা খাতুন গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে দাবি পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে হরিরামপুর ব্লকের সৈয়দপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সৈয়দপুর গ্রামে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঘটনার বিবরণ
মাসারা খাতুনের মা জানান, মেয়ে পড়াশোনায় মন দিত না। সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে ব্যস্ত থাকত। সময়-অসময় মোবাইলের পর্দায় মুখ গুঁজে বসে থাকার অভ্যাস ছিল তার। মেয়ের ভালোর জন্যই মা তাকে মোবাইল থেকে দূরে রাখতে একাধিকবার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনও উপায় না দেখে শেষ পর্যন্ত মোবাইলটি কেড়ে নেন। এই ঘটনার পরই মাসারা নিজের ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। কিছুক্ষণ পর তার কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘরে ঢুকে দেখেন, গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে রয়েছে সে। তড়িঘড়ি তাকে নামিয়ে হরিরামপুর ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত
হরিরামপুর থানার আইসি অভিষেক তালুকদার জানান, “মেয়েটি সারাক্ষণ মোবাইল নিয়ে থাকত। তার ভালোর জন্যই মা মোবাইলটি কেড়ে নিয়েছিলেন। এটাই তার অভিমানের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরপর সে নিজের ঘরে গিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।” পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, মোবাইল কেড়ে নেওয়ার ঘটনাই মাসারাকে এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করেছে।
পরিবার ও গ্রামে শোকের ছায়া
মাসারার এই অস্বাভাবিক মৃত্যুতে তার পরিবার ভেঙে পড়েছে। মা জানান, “মেয়ের ভালোর জন্যই এটা করেছিলাম। কিন্তু এমন পরিণতি হবে, তা কল্পনাও করিনি।” সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দারাও এই ঘটনায় স্তম্ভিত। এক গ্রামবাসী বলেন, “এত ছোট মেয়ে এমন কাণ্ড করবে, কে ভাবতে পারে?”
সমাজে প্রশ্ন
এই ঘটনা কিশোর-কিশোরীদের মোবাইল আসক্তি এবং তার পরিণতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার কীভাবে কম বয়সীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। মাসারার এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ক্ষতি নয়, সমাজের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।