বারবার ছুটতে হবে না নৈহাটি! বালিগঞ্জ এবং রানাঘাট স্টেশনে চালু হল ওয়াগন পরীক্ষার বিশেষ ব্যবস্থা

ভারতীয় রেলের উপর পণ্য পরিবহনের দায়িত্ব অনেক বেশি। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে রেলের ভূমিকা অপরিসীম। তবে এতদিন ওয়াগন পরীক্ষার জন্য নৈহাটি নিয়ে যেতে হত খালি মালগাড়ির রেক, যা সময়সাপেক্ষ এবং রেলের উপর বাড়তি চাপ তৈরি করত। এবার সেই সমস্যা মেটাতে বিশেষ ব্যবস্থা নিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন।

নতুন ব্যবস্থায় কী সুবিধা?

পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশনের পক্ষ থেকে এবার বালিগঞ্জ এবং রানাঘাট স্টেশনে ওয়াগন পরীক্ষার পরিকাঠামো গড়ে তোলা হল। এতদিন নৈহাটিতে ওয়াগন পরীক্ষার জন্য রেক নিয়ে যেতে হত, যার ফলে সময় ও খরচ দুটোই বেশি লাগত। পাশাপাশি যাত্রীবাহী ট্রেনের চাপের কারণে রেললাইনেরও সমস্যা হত।

এখন থেকে বালিগঞ্জ স্টেশনের ৮ নম্বর লাইনে নতুন ওয়াগন পরীক্ষা করা হবে। এখানে সমস্ত পরীক্ষার পর সবুজ সঙ্কেত পেলেই সেই ওয়াগন পণ্য পরিবহনের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে। একইভাবে রানাঘাটেও পুরনো এবং নতুন ওয়াগন পরীক্ষার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।

সময় ও খরচ কমবে

রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন এই পদক্ষেপে সময় বাঁচবে এবং পণ্য পরিবহনের সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও মজবুত হবে। শুধু বাংলাই নয়, গোটা দেশজুড়ে পণ্য পরিবহন আরও দ্রুত ও মসৃণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিয়ালদহ ডিভিশনের রেলওয়ে ম্যানেজার দীপক নিগম জানিয়েছেন, “ওয়াগন পরীক্ষার এই নতুন ব্যবস্থা রেলের জন্য বড়সড় পদক্ষেপ। এতে মালগাড়ি চলাচল যেমন মসৃণ হবে, তেমনই পণ্য পরিবহনের গতি অনেকটাই বাড়বে।”

লাভবান হবে বেসরকারি সংস্থাগুলিও

বালিগঞ্জ স্টেশনের সংলগ্ন দু’টি বেসরকারি সংস্থা ওয়াগন তৈরি করে, যা ভারতীয় রেল কিনে থাকে। এতদিন সেই ওয়াগন পরীক্ষার জন্য নৈহাটি নিয়ে যেতে হত, যা ছিল দীর্ঘমেয়াদী এবং ব্যয়সাপেক্ষ। নতুন এই ব্যবস্থায় ওই সংস্থাগুলিও লাভবান হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উপসংহার

পূর্ব রেলের এই উদ্যোগের ফলে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সময়ের সাশ্রয় হবে, খরচ কমবে এবং নিরাপত্তাও বৃদ্ধি পাবে। ফলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবাহেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন রেল আধিকারিকরা।