BJP-তে ভাঙন ঠেকাতে পদ্মের ভরসা এখন আদিতে, বদলে গেলো পূর্ব মেদিনীপুরে সভাপতি

হলদিয়ার বিধায়ক তাপসী মণ্ডলের তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর পূর্ব মেদিনীপুরে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছে। তাপসীর দলত্যাগের পর অন্য দল থেকে আসা নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো নিয়ে জেলার পুরোনো বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তীব্র হয়েছে। নিচুতলার কর্মীদের অভিযোগ, ‘ভাড়াটে সৈনিক’দের (অন্য দল থেকে আগত নেতা) প্রাধান্য দেওয়ার ফলে দলের কোনও লাভ হয়নি, বরং আদি নেতাদের পেছনে সরিয়ে রাখায় সংগঠনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষোভের জেরে দ্রুত পদক্ষেপ

ক্রমবর্ধমান ক্ষোভের মুখে পড়ে বিজেপি তড়িঘড়ি পূর্ব মেদিনীপুরের দুটি সাংগঠনিক জেলায় সভাপতি বদল করেছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়েছে মলয় সিনহাকে এবং কাঁথি সাংগঠনিক জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সোমনাথ রায়ের হাতে। দুজনেই বিজেপির পুরোনো ও বিশ্বস্ত মুখ। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দলে ভাঙন রুখতে এবং আদি নেতাদের মনোবল ফেরাতে এই পদক্ষেপ নিয়েছে গেরুয়া শিবির।

তাপসী ও অরূপের যাত্রা

২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৎকালীন সিপিএম বিধায়ক তাপসী মণ্ডল বিজেপিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি হলদিয়া থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হন। ২০২৩ সালে তাঁকে তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়। একইভাবে, শুভেন্দুর হাত ধরে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা অরূপকুমার দাসকে ২০২৩ সালে কাঁথি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি করা হয়। তবে, অন্য দল থেকে আসা এই দুই নেতাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো নিয়ে আদি বিজেপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। তাপসীর সাম্প্রতিক তৃণমূলে যোগদানে সেই ক্ষোভ আরও প্রকট হয়েছে।

‘ভাড়াটে সৈনিক’ বিতর্ক

আদি বিজেপি নেতা-কর্মীরা অন্য দল থেকে আসা নেতাদের ‘ভাড়াটে সৈনিক’ বলে কটাক্ষ করছেন। তাঁদের বক্তব্য, এই নেতাদের গুরুত্ব দেওয়ার জেরে দলের মূল শক্তি দুর্বল হয়েছে। তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি প্রলয় পাল বলেন, “দলের এটা অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল। নীতি-আদর্শ মেনে চলা কর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া উচিত। অন্য দল থেকে আসা লোকজনকে পাওয়ারফুল ভেবে ভুল করা হয়েছে। তাঁরা ভেবেছিলেন এখানে এসে উপার্জন করবেন। যখন দেখলেন ব্যবসা হবে না, তখন চলে গেছেন।”

নতুন সভাপতিরা কারা?

তমলুক জেলার নতুন সভাপতি মলয় সিনহা পেশায় আইনজীবী এবং একসময় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বিজেপির সভাপতি ছিলেন। অন্যদিকে, কাঁথির নতুন সভাপতি সোমনাথ রায় পেশায় শিক্ষক এবং দলের পুরোনো নেতা। তিনিও অতীতে জেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর অন্য দল থেকে আসা নেতারা গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করায় আদি নেতাদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই ক্ষোভ কমানোর চেষ্টা করছে দল।

রাজনৈতিক পরিস্থিতি

তাপসী মণ্ডলের তৃণমূলে যোগদান বিজেপির জন্য বড় ধাক্কা। জেলার রাজনৈতিক মহল মনে করছে, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে দলের ভাঙন ঠেকাতে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বিজেপি এখন পুরোনো নেতাদের ওপর ভরসা করছে। তবে এই পদক্ষেপ কতটা ফল দেবে, তা সময়ই বলবে।