‘ভূতুড়ে ভোটার’ তাড়াতে বড় সিদ্ধান্ত? এবার বিশেষ বৈঠক ডাকল নির্বাচন কমিশন

ভুতুড়ে ভোটার বিতর্কে উত্তপ্ত রাজনৈতিক মহল। এই পরিস্থিতিতে ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার কার্ড সংযুক্তিকরণ নিয়ে পদক্ষেপ করতে চলেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। বিতর্ক মাথাচাড়া দেওয়ার পর তিন মাস সময় চেয়ে নিয়েছিল কমিশন। আগামী মঙ্গলবার (১৮ মার্চ, ২০২৫) এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে জানা গেছে। বৈঠকে সমস্যার সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

নির্বাচন কমিশন এর আগে জানিয়েছিল, একই এপিক নম্বর (EPIC Number) একাধিক ভোটারের জন্য ইস্যু করা হলেও রাজ্য, ভৌগলিক অবস্থান, ভোটারের ঠিকানা, বিধানসভা কেন্দ্র এবং ভোট কেন্দ্র অনুযায়ী তা আলাদা থাকে। কমিশন স্পষ্ট করেছে, ভোটাররা শুধুমাত্র সেই কেন্দ্রে ভোট দিতে পারবেন, যেখানে তাঁদের নাম তালিকাভুক্ত। অন্য কোথাও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে অভিযোগ তুলে দাবি করেছে যে, বিজেপি অনলাইন পদ্ধতির সুযোগ নিয়ে ভোটার তালিকায় ভুতুড়ে ভোটার ঢুকিয়ে দিচ্ছে। তৃণমূলের এই অভিযোগকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস ও এনসিপি-র মতো দল। ফলে বিষয়টি দিল্লি পর্যন্ত গড়িয়েছে, যার জেরে নড়েচড়ে বসেছে নির্বাচন কমিশন।

গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব, আধার কমিশনের সিইও, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং কেন্দ্রীয় আইনসচিবের উপস্থিত থাকার কথা। এছাড়া, জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির কাছ থেকে আধার-ভোটার সংযুক্তিকরণ নিয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়েছে। জানা গেছে, বৈঠকে সংযুক্তিকরণের প্রক্রিয়া, সময়সীমা এবং সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হতে পারে।

তৃণমূলের অভিযোগ ও কমিশনের জবাব

তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় বিজেপি ভোটার তালিকায় ভুতুড়ে ভোটার যোগ করছে। তিনি একই এপিক নম্বরে একাধিক ভোটারের উপস্থিতির ‘প্রমাণ’ও দেখিয়েছেন। জবাবে কমিশন জানিয়েছে, একই এপিক নম্বরে একাধিক নাম থাকলেও তা সবসময় নকল বা ভুয়ো ভোটারের প্রমাণ নয়। তবে তৃণমূল এই যুক্তি মানতে নারাজ। কমিশন তাঁদের অবস্থানে অনড় থাকলেও বিষয়টি নিয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে। তারা আশ্বাস দিয়েছে, আগামী তিন মাসের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করা হবে।

বিতর্কের পটভূমি

‘ভুতুড়ে ভোটার’ ইস্যুটি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপি ভোটার তালিকায় হেরফের করে নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে ডুপ্লিকেট এপিক নম্বরের সমস্যা স্বীকার করা হয়েছে। তবে তারা জোর দিয়ে বলেছে, এটি ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বা নিরপেক্ষতার ওপর প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে না।

কী হতে পারে পরবর্তী পদক্ষেপ?

আধার-ভোটার কার্ড সংযুক্তিকরণের মাধ্যমে ভুতুড়ে ভোটারের সমস্যা সমাধানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে কমিশন। এই প্রক্রিয়া চালু হলে ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এটি কীভাবে এবং কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা যাবে, তা নিয়ে আসন্ন বৈঠকে আলোচনা হবে। রাজনৈতিক দলগুলির মতামতের ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করবে।

ভুতুড়ে ভোটার বিতর্কে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন তীব্র পর্যবেক্ষণের মুখে। আগামী দিনে এই ইস্যু কীভাবে সমাধান হয়, তা দেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।