“পা রাখলেই দিতে হবে ট্যাক্স”-সিকিমে ঘুরতে যাওয়ার আগে সাবধান! জেনেনিন কেন?

পাহাড়ের রানি সিকিমে এবার থেকে পর্যটকদের প্রবেশের জন্য মাথাপিছু কর দিতে হবে। সিকিম সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, মার্চ মাসের মধ্যেই এই নিয়ম কার্যকর করার তারিখ চূড়ান্ত করা হবে এবং শীঘ্রই তা ঘোষণা করা হবে। বিগত কয়েক বছরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে রাজ্যের পর্যটন শিল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হড়পা বন্যা থেকে শুরু করে ভূমিধস—একের পর এক দুর্যোগে সিকিমের অর্থনীতি ও পর্যটন পরিকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পর্যটন ও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য ভুটানের মডেল অনুসরণ করে এই কর আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাহাড়ি এই রাজ্য।

সিকিম সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক পর্যটককে মাথাপিছু ৫০ টাকা করে কর দিতে হবে। এই নিয়ম চলতি মাস থেকেই কার্যকর হবে বলে সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান চলাচল বিভাগের প্রধান সচিব সি.এস. রাও একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাজ্যের তরফে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘সিকিম রেজিস্ট্রেশন অফ ট্যুরিস্ট ট্রেড রুলস ২০২৫’-এর অধীনে এখন থেকে সিকিমে প্রবেশকারী প্রত্যেক পর্যটককে এই কর প্রদান করতে হবে।

করের উদ্দেশ্য ও ব্যবহার

প্রধান সচিব সি.এস. রাও জানিয়েছেন, এই কর আরোপের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়ন। আদায়কৃত অর্থ সড়ক যোগাযোগের উন্নতি, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং পর্যটকদের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ গড়ে তোলায় ব্যয় করা হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই পর্যটকরা সিকিমে এসে আরামদায়ক ও নিরাপদভাবে ঘুরতে পারেন। এই করের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য পূরণ করা হবে।”

কারা কর থেকে মুক্ত?

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এক বছরের কম বয়সী শিশু এবং সরকারি কাজে সিকিমে আগত ব্যক্তিদের এই কর দিতে হবে না। তবে অন্যান্য পর্যটকদের ক্ষেত্রে হোটেলে প্রবেশের সময়ই এই কর আদায় করা হবে। হোটেল কর্তৃপক্ষ এই দায়িত্ব পালন করবে। ৫০ টাকা কর প্রদানের পর পর্যটকরা এক মাসের জন্য সিকিমে অবাধে ঘুরতে পারবেন। এই সময়ের মধ্যে রাজ্য ত্যাগ করে পুনরায় প্রবেশ করলেও নতুন করে কর দিতে হবে। তবে একই ভ্রমণের মধ্যে হোটেল পরিবর্তন করলে পুনরায় কর দিতে হবে না।

পর্যটন ও রাজস্বের সম্ভাবনা

গত অর্থবর্ষে সিকিমে প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ পর্যটক এসেছিলেন, যার মধ্যে ১ লক্ষ ৩০ হাজার ছিলেন বিদেশি পর্যটক। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের কাছ থেকে কর আদায়ের মাধ্যমে রাজ্য সরকার উল্লেখযোগ্য রাজস্ব সংগ্রহের আশা করছে। প্রশাসনের মতে, এই অর্থ রাজ্যের পর্যটন খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে।

প্রভাব নিয়ে জল্পনা

এই নতুন নিয়ম পর্যটন শিল্পে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে এখনও জল্পনা চলছে। পর্যটন মহলের একাংশ মনে করছেন, এই সামান্য পরিমাণ কর পর্যটকদের উপর তেমন বোঝা না হলেও, দীর্ঘমেয়াদে এর ফলাফল কী হবে, তা দেখার জন্য কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

সিকিমের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও শান্ত পরিবেশ পর্যটকদের কাছে সবসময়ই আকর্ষণীয়। এই নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্য সরকার সেই সৌন্দর্য ও সুবিধা আরও বাড়াতে চায়। তবে পর্যটকদের প্রতিক্রিয়া এবং এর বাস্তবায়ন কতটা সফল হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।