BJP-তে তুঙ্গে কোন্দল? দুর্নীতির অভিযোগে পার্টি অফিসে সাংসদের বিরুদ্ধে লাগানো হলো পোস্টার

জলপাইগুড়িতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এলো। লোকসভা ভোটের তহবিলে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠেছে বিজেপি সাংসদ, লোকসভা ভোটের কনভেনার এবং জেলা সভাপতিসহ দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে। চাঞ্চল্যকরভাবে এই অভিযোগ তুলেছেন খোদ বিজেপির কর্মীরাই। জেলা বিজেপি অফিসের সামনে পোস্টারে ফুটে উঠেছে তাঁদের ক্ষোভ।

পোস্টারে কী লেখা?

শনিবার সকালে জলপাইগুড়ি শহরের ডিবিসি রোডে বিজেপি দফতরের সামনে এই পোস্টার চোখে পড়ে। পোস্টারে লেখা, “লোকসভা ভোটের চুরির টাকা কোথায় গেল, মাননীয় সাংসদ, লোকসভা ভোটের কনভেনার ও জেলা সভাপতি জবাব দাও।” নিচে স্বাক্ষর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ‘জেলা বিজেপির সকল সদস্যবৃন্দ’। এই পোস্টার ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পথচারীরা দাঁড়িয়ে পোস্টার পড়তে থাকেন এবং আলোচনা শুরু হয়।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় ব্যবসায়ী ভবতোষ ভৌমিক বলেন, “শুনেছি পোস্টার পড়েছে। কিন্তু কে বা কারা এটা লাগিয়েছে, তা জানি না। এটা দেখে মনে হচ্ছে দলের ভেতরে কিছু গন্ডগোল চলছে।” পোস্টারটি কে লাগিয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট না হলেও এটি দলের অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বিজেপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল?

জেলা বিজেপি নেতৃত্ব এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে দলের ভেতরকার গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপির কর্মীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পোস্টার তারই প্রমাণ বলে দাবি করছে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি)।

টিএমসির কটাক্ষ

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বিজেপির ওপর তীব্র কটাক্ষ করেছে টিএমসি। তাদের দাবি, “বিজেপি পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। দলের কর্মীরাই নেতাদের বিরুদ্ধে পোস্টার দিয়ে সরব হয়েছেন। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জর্জরিত বিজেপি দুর্নীতিতে ডুবে আছে। লোকসভা ভোটের সময় কোটি কোটি টাকা তছরুপ করেছে তারা। এখন সেই অভিযোগ উঠছে।” টিএমসি নেতারা এই ঘটনাকে বিজেপির দুর্বলতার প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

বিজেপির নীরবতা

অভিযোগের মুখে পড়লেও জেলা বিজেপির কোনও নেতা এখনও মুখ খোলেননি। দলের এই নীরবতা রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। দলের অন্দরে কী ঘটছে, তা নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়েছে। বিজেপির অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ কি আরও বড় আকার নেবে, নাকি নেতৃত্ব এই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে, তা সময়ই বলবে।

রাজনৈতিক প্রভাব

জলপাইগুড়ির এই ঘটনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে। লোকসভা ভোটের পর বিজেপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসায় বিরোধীরা এটিকে হাতিয়ার করার চেষ্টা করছে। জেলায় বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি এই ঘটনার পর কতটা প্রভাবিত হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।