ক্ষুদ্র ও মাঝারি শুধু নয়, এ বার বৃহৎ শিল্পেও প্রথম সারিতে বাংলা, কি বলছে কেন্দ্রের রিপোর্ট?

বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রে এ বার বড় সাফল্য অর্জন করেছে পশ্চিমবঙ্গ। ক্ষুদ্র, ছোট এবং মাঝারি (এমএসএমই) শিল্পে রাজ্য যে দেশের মধ্যে এক নম্বরে রয়েছে, তা কেন্দ্রীয় সরকারের রিপোর্টেই স্পষ্ট হয়েছে। এমনকী, কৃষি নির্ভর নয় এমন শিল্পে রাজ্য দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। অসংগঠিত উৎপাদন শিল্প ক্ষেত্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রি) মহিলা মালিকানাধীন শিল্পের দিক থেকেও বাংলা শীর্ষে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও রাজ্য প্রথম স্থানে রয়েছে।

গত কয়েক বছর ধরে রাজ্যে বৃহৎ শিল্প নিয়ে নানা সমালোচনা শোনা যাচ্ছিল। তবে এ বার সেই সমালোচনার জবাব দিয়ে বাংলা শিল্প ক্ষেত্রে নিজেকে প্রথম সারিতে নিয়ে এসেছে। বুধবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বৃহৎ শিল্পের ক্ষেত্রেও বাংলা এখন দেশের শীর্ষে। গত এক বছরে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রাজ্য প্রথম স্থান দখল করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন, অল্প সময়ের মধ্যে এই ক্ষেত্রে রাজ্য আরও উপরে উঠে আসবে।

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, “আমরা এখন বৃহৎ শিল্পেও দেশের শীর্ষ গ্রেডে অবস্থান করছি। কয়েক বছর ধরেই আমরা এমএসএমই ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষ স্থানে ছিলাম। এখন বড় শিল্পের ক্ষেত্রেও বাংলা প্রথম সারিতে চলে এল।” তিনি আরও যোগ করেন, “কেন্দ্রের শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য বিভাগের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, শিল্প ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গকে অগ্রণী রাজ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বড় শিল্পে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শীর্ষ স্থানে রয়েছে বাংলা। মন্ত্রকের বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২৪-২৫ অনুযায়ী, (বড়) কর্পোরেট শিল্প বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে, ২০২৪ সালে আমরা প্রায় সব রাজ্যকে ছাড়িয়ে গিয়েছি। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলা শীর্ষ তিনটি রাজ্যের মধ্যে রয়েছে।”

মমতা আরও জানান, ২০২৫ সালে অনুষ্ঠিতব্য বেঙ্গল গ্লোবাল বিজনেস সামিটে যে বিনিয়োগ প্রস্তাব এসেছে, তা আগামী দিনে রেকর্ড গড়বে। কেন্দ্রের শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে স্টার্টআপ চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৯ সালে রাজ্যে স্টার্টআপের সংখ্যা ছিল ২৭৬, যা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর নাগাদ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১৭০-এ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্পের অনুকূল পরিবেশের জন্যই রাজ্যে বিনিয়োগ বাড়ছে। গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার বিনিয়োগের নিয়ম অনেক সরল করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে। এই সাফল্যের পিছনে রাজ্যের নীতি ও পরিকাঠামো উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প ক্ষেত্রে নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা আগামী দিনে রাজ্যের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে।