তামিলরা ‘অসভ্য’, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তোলপাড় সংসদ, নিন্দা রাজনৈতিক অঙ্গনে

জাতীয় শিক্ষানীতি (এনইপি) এবং হিন্দি ভাষার প্রভাব নিয়ে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ সংসদে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। সোমবার সংসদে দাঁড়িয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “রাজনীতির স্বার্থে রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছেলেখেলা করছেন স্ট্যালিন।” পাল্টা ডিএমকে নেতা স্ট্যালিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে উদ্দেশ করে বলেন, “মুখ সামলে কথা বলুন।” এমনকি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর মন্ত্রীর এই আচরণ সমর্থন করেন কিনা, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

সংসদে হট্টগোল, অধিবেশন মুলতুবি
এ দিন সংসদে স্কুল স্তরে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান তামিলনাড়ুর সাংসদদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, ডিএমকে সাংসদেরা শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে ওয়েলে নেমে প্রতিবাদ জানান। হইচইয়ের মধ্যে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা সাংসদদের শান্ত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। ফলে অধিবেশন মুলতুবি করে দেওয়া হয়। সংসদের বাইরেও বিজেপি সাংসদদের সঙ্গে কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলের সদস্যদের তর্কাতর্কি চলে।

হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
জাতীয় শিক্ষানীতির নামে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির উপর হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই সরব স্ট্যালিন। এ দিন সংসদে ধর্মেন্দ্র বলেন, “সস্তা রাজনীতির জন্য আপনারা তামিলনাড়ুর ছাত্র সমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছেন। আপনারা অসৎ, অসভ্য। ব্রিটিশ ঔপনিবেশকতা সরিয়ে হিন্দির উপনিবেশ হতে আপনাদের এত আপত্তি কীসের?” এই মন্তব্যের পরই দক্ষিণের রাজ্যের সাংসদেরা তীব্র প্রতিবাদে ফেটে পড়েন।

কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চেন্নাই থেকে এর জবাব দেন স্ট্যালিন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, “মুখ সামলে কথা বলুন। আপনার ঔদ্ধত্য দেখে মনে হচ্ছে আপনি একজন রাজা! আপনারা রাজ্যের বরাদ্দ আটকে রেখে আমাদের সাংসদদের অসভ্য বলছেন কোন সাহসে? আপনি গোটা তামিলনাড়ুর মানুষকে অপমান করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, আপনি কি আপনার মন্ত্রীর এই কথার সঙ্গে সহমত?” তিনি আরও বলেন, “পিএম শ্রী প্রকল্পে তামিলনাড়ুর প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে আমাদের ছেলেমেয়েদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। সেই টাকা কবে ছাড়া হবে, সাহস থাকলে বলুন।”

তিন ভাষা নীতির বিরোধিতা
তামিলনাড়ু জাতীয় শিক্ষানীতির তিন ভাষা নীতি মানতে রাজি নয়। স্ট্যালিন ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে দিল্লির কাছে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি দক্ষিণের রাজ্যগুলির উপর হিন্দি ভাষার আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অ-হিন্দিভাষী রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠিও লিখেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। বিজেপি নেতাদের মতো নাগপুরের কথায় আমরা ওঠবোস করি না।”

ধর্মেন্দ্রর দাবি ও ক্ষমাপ্রার্থনা
ধর্মেন্দ্র অভিযোগ করেন, ডিএমকে-সহ তামিলনাড়ুর অন্যান্য দলের সাংসদেরা পূর্বে তাঁর সঙ্গে দেখা করে জাতীয় শিক্ষানীতি ও পিএম শ্রী প্রকল্পের শর্ত মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন তাঁরা উল্টো পথে হাঁটছেন। তবে বিতর্কের মধ্যে ডিএমকে নেত্রী কানিমোড়ি বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর মন্তব্যে তিনি আঘাত পেয়েছেন। জবাবে ধর্মেন্দ্র বলেন, “আমি তামিলনাড়ুর সাংসদ, সরকার বা মানুষদের আঘাত করতে চাইনি। যদি আমার কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকেন, সে কথা প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইছি।”

বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
কংগ্রেস সাংসদ মাল্লা রবি বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী দক্ষিণের একটি রাজ্য সম্পর্কে কুরুচিকর মন্তব্য করেছেন। তিনি তামিলদের অসভ্য বলেছেন। এই অসম্মান দক্ষিণের মানুষের প্রাপ্য নয়।” পাল্টা বিজেপির নিশিকান্ত দুবে বলেন, “ডিএমকে ভাষার আবেগ উস্কে উত্তর ও দক্ষিণের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে।” এই বিতর্কে সংসদের ভিতর-বাইরে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।