বাজার খুলতেই প্রবল ধস! Sensex, Nifty-তে ‘লালবাতি’, উদ্বেগে বিনোয়োগকারীরা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতি নিয়ে একের পর এক সিদ্ধান্তে এবার বড় ধাক্কা খেলেন আমেরিকার শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা। মার্কিন শেয়ারবাজারে (US Stock Market) বড়সড় ধস নামায় তার প্রভাব পড়ল ভারতেও। মঙ্গলবার (১১ মার্চ, ২০২৫) ভারতীয় বাজার খুলতেই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ (BSE) সেনসেক্স ৪০০ পয়েন্ট এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জ (NSE) নিফটি ১৩০ পয়েন্ট পড়ে গেল। এই পতনের মধ্যে IndusInd Bank-এর শেয়ার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা ১৫ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নগামী হয়েছে।

বাজার খুলতেই লালে লাল
মঙ্গলবার সকালে ভারতীয় শেয়ারবাজার খুলতেই সেনসেক্স ৪০০ পয়েন্ট পড়ে ৭৩,৬৭২ পয়েন্টে পৌঁছে যায়। সোমবার নিফটি ২২,৪৬০.৩০ পয়েন্টে বন্ধ হয়েছিল, কিন্তু আজ খোলার সঙ্গে সঙ্গে ১৩০ পয়েন্ট পতনের পর তা ২২,৩১৪ পয়েন্টে নেমে আসে। বাজারে লেনদেন শুরু হতেই ১,৭১৫টি কোম্পানির শেয়ার রেড জোনে চলে যায়, যেখানে মাত্র ৬১৭টি কোম্পানির শেয়ার সবুজে থাকে। ১০৫টি শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত ছিল।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ার
বাজারে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে IndusInd Bank, Infosys, Tech Mahindra, TCS এবং TATA Motors-এর শেয়ার। বিশেষ করে IndusInd Bank-এর শেয়ার ১৫ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে গেছে। অন্যদিকে ICICI Bank, Maruti Suzuki এবং ONGC-র শেয়ার কিছুটা স্থিতিশীল থেকে গ্রিন জোনে লেনদেন করছে। তবে বাজারের সামগ্রিক চিত্রে উদ্বেগ স্পষ্ট।

মার্কিন বাজারে ধসের প্রভাব
গত ট্রেডিং দিনে মার্কিন শেয়ারবাজারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ডাও জোন্স সূচক লেনদেনের সময় ১,১০০ পয়েন্ট পর্যন্ত কমে গিয়েছিল। দিন শেষে এটি ৮৯০ পয়েন্ট বা ২.০৮ শতাংশ কমে ৪১,৯১১.৭১-এ বন্ধ হয়। একইভাবে S&P 500 সূচক ১৫৫.৬৪ পয়েন্ট বা ২.৭০ শতাংশ কমে বন্ধ হয়। Nasdaq-এর অবস্থা আরও শোচনীয়, যা ৪ শতাংশ পতনের সঙ্গে ১৭,৪৬৮.৩২ পয়েন্টে নেমে আসে। ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ নীতি এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তার জেরে এই পতন ঘটেছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

ভারতে প্রভাবের কারণ
মার্কিন বাজারে এই ধসের প্রভাব ভারতীয় শেয়ারবাজারেও পড়েছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি (IT) এবং ব্যাঙ্কিং খাতের উপর এর নেতিবাচক প্রভাব স্পষ্ট। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, যার ফলে তারা ভারতীয় বাজার থেকে বিনিয়োগ তুলে নিচ্ছেন। এছাড়া, ট্রাম্পের ট্যারিফ নীতির ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে সংকটের আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভরসা কমিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন অর্থনীতিতে মন্দার আশঙ্কা এবং ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা বাড়ছে। একজন বিশেষজ্ঞ জানান, “ভারতীয় বাজারে এই পতন সাময়িক হতে পারে, তবে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ না বাড়লে চাপ আরও বাড়তে পারে।” তবে কেউ কেউ মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে ভারতীয় বাজার এই ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারে, যদি দেশীয় বিনিয়োগকারীরা সক্রিয় থাকেন।

আগামীর চিত্র
আমেরিকার শেয়ারবাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে ভারতীয় বাজারের উপরও এর প্রভাব দীর্ঘায়িত হতে পারে। বিনিয়োগকারীদের এখন নজর রাখতে হবে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার এবং ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কও (RBI) বাজার স্থিতিশীল করতে হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।