“ভবানীপুর থেকে দাঁড়ালেও মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে হারাব”- হুঙ্কার শুভেন্দুর

রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মন্দিরে আক্রমণ এবং হিন্দু দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার বিধানসভা থেকে রাজভবন পর্যন্ত পদযাত্রা করেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির দলীয় বিধায়করা। এই পদযাত্রার মাধ্যমে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।
পদযাত্রা শেষে রাজভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন শুভেন্দু। এ সময় তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “গতবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়েছিলেন। তাঁকে আমরা হারিয়েছি। এবার যদি ভবানীপুরে দাঁড়ান, তাহলেও আমরা তাঁকে হারাব। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সবথেকে সেফ সিট হল মেটিয়াবুরুজ। তবে ওখানে যদি নওশাদ দাঁড়ায়, তাহলে হেরেও যেতে পারেন।” তাঁর এই বক্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন যে, রাজ্যে হিন্দু মন্দিরে আক্রমণ এবং দেবদেবীর মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। তিনি বলেন, “এই ধরনের ঘটনা রাজ্যে অবাধে চলছে। সরকারের নীরবতা এবং পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এই পরিস্থিতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং এই অবস্থার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে দায়ী করছি।”
এদিনের পদযাত্রায় বিজেপির একাধিক বিধায়ক উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে ধরেন। শুভেন্দু জানান, এই ঘটনাগুলির প্রতিবাদে তাঁরা রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই পদযাত্রা এবং মমতাকে প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া আগামী দিনে রাজ্যের রাজনীতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও এই বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে শুভেন্দুর বক্তব্যের পর তৃণমূল নেতৃত্ব কী জবাব দেয়, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে মন্দিরে হামলা এবং মূর্তি ভাঙচুরের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ঘটনাগুলি নিয়ে বিজেপি বারবার রাজ্য সরকারের সমালোচনা করে আসছে। শুভেন্দু অধিকারী এদিন দাবি করেন, “এই সব ঘটনা রুখতে সরকারের কোনও উদ্যোগ নেই। আমরা জনগণের পাশে থেকে এর বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।”
এই পদযাত্রা এবং শুভেন্দুর বক্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের আভাস মিলছে। আগামী দিনে এই ইস্যু কীভাবে রাজনৈতিক রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।