“আর কত সিনেমায় দেশ বাঁচাবে….?” -অক্ষয়ের সিনেমা নিয়ে খোঁচা স্ত্রী টুইঙ্কলের

বলিউডে দেশাত্মবোধক সিনেমার কথা উঠলেই পরিচালকদের প্রথম পছন্দ অক্ষয় কুমার। রগরগে অ্যাকশনের পাশাপাশি দেশপ্রেমের গল্পে তিনি বারবার পর্দায় হাজির হয়েছেন। ‘মিশন মঙ্গল’, ‘এয়ারলিফ্ট’, ‘মিশন রানিগঞ্জ’, ‘স্কাই ফোর্স’—এমন একাধিক ছবিতে অক্ষয়ের অভিনয়ে ফুটে উঠেছে দেশের জন্য লড়াই ও গর্বের কাহিনি। তবে এই দেশপ্রেমের গল্প পর্দায় ফোটাতে গিয়ে বাড়িতে স্ত্রী টুইঙ্কেল খান্নার কাছে খোঁটা শুনতে হয় অভিনেতাকে। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে এই মজার কথা নিজেই ফাঁস করেছেন ‘খিলাড়ি’।
অক্ষয় জানিয়েছেন, তিনি নিজের প্রযোজনা সংস্থা খোলার পর থেকে দেশাত্মবোধক ছবিতে বেশি মন দিয়েছেন। তবে এই প্রসঙ্গে স্ত্রী টুইঙ্কেল মাঝেমধ্যে রসিকতা করে বলেন, “পর্দায় আর কতবার দেশকে বাঁচাবে তুমি?” এই খোঁচা শুনে হাসেন অক্ষয়, তবে তিনি এই ধরনের সিনেমার প্রতি নিজের ভালোবাসার কথাও স্পষ্ট করেছেন।
কেন দেশাত্মবোধক ছবি?
অনুষ্ঠানে অক্ষয় ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তিনি দেশপ্রেমের গল্পে অভিনয় করতে এতটা উৎসাহী। তিনি বলেন, “আমরা অনেক হলিউড সিনেমা দেখেছি, যেখানে বিশ্ব সন্ত্রাসবাদ, এলিয়েন বা মহাজাগতিক বিপর্যয়ের কবলে পড়ে। প্রশ্ন থাকে একটাই—এই বিপদ থেকে কে বাঁচাবে? উত্তরে আসে আমেরিকা। তাহলে আমি ভাবি, আমেরিকা যদি সব করে ফেলে, তবে ভারতের জন্য কী থাকবে? আমরা জানি, আমাদের ভারত কী করতে পারে। তাই আমি এই গল্পগুলো পর্দায় তুলে আনি।”
সম্প্রতি ‘স্কাই ফোর্স’ ছবিতে দেশপ্রেমিক সেনা জওয়ানের চরিত্রে দেখা গেছে অক্ষয়কে। তিনি জানান, “এই ধরনের সিনেমা বক্স অফিসে বেশি ব্যবসা না করলেও আমি এগুলো করি কারণ আমার মন তাতে শান্তি পায়। মানুষ বিনোদনমূলক কন্টেন্ট বেশি পছন্দ করেন, তবু আমি দেশের গর্বের কাহিনি তুলে ধরতে চাই। আরেকটি ভালো দিক হলো, প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর এই ছবিগুলো ওয়েব প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের কাছে পৌঁছে যায়।”
ভবিষ্যতেও দেশের গল্প
অক্ষয়ের কথায় স্পষ্ট, তিনি ভবিষ্যতেও দেশাত্মবোধক ছবি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, “আমি জানি এই ছবিগুলো ব্যবসায়িকভাবে সব সময় সফল নাও হতে পারে। কিন্তু আমার কাছে এগুলো শুধু সিনেমা নয়, দেশের প্রতি আমার ভালোবাসার প্রকাশ।”
টুইঙ্কেলের রসিকতা আর অক্ষয়ের দেশপ্রেমের গল্পে ভক্তদের মুখে হাসি ফুটেছে। পর্দায় দেশ বাঁচাতে ব্যস্ত এই অভিনেতা বাড়িতে স্ত্রীর খোঁচা সামলে নিজের কাজে অটল থাকার প্রমাণ দিচ্ছেন।