ট্রাম্পের এই কাজের পরই হুড়মুড়িয়ে কমলো বিটকয়েনের দাম, উদ্বেগে লগ্নিকারীরা

শুক্রবার সকালে বিশ্বের বৃহত্তম ক্রিপ্টোকারেন্সি বিটকয়েনের দাম হুড়মুড়িয়ে ৫ শতাংশের বেশি কমেছে। এই পতনের ফলে বিটকয়েনের মূল্য ৮৫,৩৩৯ মার্কিন ডলারে (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫৮৩ টাকা) নেমে এসেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজ়ার্ভ তৈরির নির্দেশকে এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প ক্রিপ্টোকারেন্সি রিজ়ার্ভ গঠন সংক্রান্ত একটি নির্বাহী নির্দেশে স্বাক্ষর করেন। এই নির্দেশ অনুযায়ী, মার্কিন সরকার বিভিন্ন অপরাধমূলক ও দেওয়ানি মামলায় বাজেয়াপ্ত করা ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করে একটি রিজ়ার্ভ গঠন করবে। হোয়াইট হাউসের ক্রিপ্টো বিশেষজ্ঞ ডেভিড স্যাকস এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে জানিয়েছেন, বিটকয়েন, ইথার, এক্সআরপি, সোলোনা এবং কারডানো—এই পাঁচটি ক্রিপ্টোকারেন্সি দিয়ে এই রিজ়ার্ভ তৈরি করা হবে। তবে এই রিজ়ার্ভ থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সি বিক্রি করা হবে না বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রভাব পড়েছে ক্রিপ্টো বাজারে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর থেকেই বিটকয়েনসহ একাধিক ক্রিপ্টোকারেন্সির দামে ধস নেমেছে। যদিও এই রিজ়ার্ভ কীভাবে পরিচালিত হবে এবং সাধারণ করদাতারা এর থেকে কী সুবিধা পাবেন, সে বিষয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট তথ্য দেওয়া হয়নি।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন সরকারের কাছে ইতিমধ্যেই প্রায় ২ লক্ষ বিটকয়েন রয়েছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৪০ কোটি মার্কিন ডলার। তবে ক্রিপ্টো রিজ়ার্ভ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলে সরকারের হাতে থাকা ক্রিপ্টোকারেন্সির সঠিক পরিমাণ জানা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই বিটকয়েনসহ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম বাড়তে শুরু করেছিল। বিটকয়েনের দাম ১ লক্ষ মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই পর্যায় থেকে দাম অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপ ক্রিপ্টো বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে এই রিজ়ার্ভ গঠনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ক্রিপ্টো বাজার এবং বিনিয়োগকারীরা আগামী দিনগুলিতে এই নীতির প্রভাব কতটা অনুভব করবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

এই ঘটনায় ক্রিপ্টো বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিনিয়োগকারী এবং বিশ্লেষকরা এখন অপেক্ষায় রয়েছেন, মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্রিপ্টোকারেন্সির বিশ্বব্যাপী গ্রহণযোগ্যতা এবং স্থিতিশীলতাকে কীভাবে প্রভাবিত করবে।