কোটি কোটি টাকা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ, গ্রেপ্তার হলেন তৃণমূল নেতা

নদিয়ার একটি সমবায় সমিতিতে কয়েক কোটি টাকার আর্থিক তছরুপের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন শহর সভাপতি ও জেলার প্রবীণ নেতা শিবনাথ চৌধুরী। ২০১৪ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি ‘কালীনগর গভার্নমেন্ট কলোনি সমবায় সমিতি’-র চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর আমলেই এই আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, যা সমিতির এক সদস্য প্রথম সামনে আনেন।

সমিতির সদস্য নন্দিতা ঘোষ জানিয়েছেন, শিবনাথ চৌধুরী চেয়ারম্যান থাকাকালীন সমিতির তহবিলে ব্যাপক গরমিল হয়। তিনি বলেন, “আমরা এই বিষয়টি সমবায় সমিতির এআরসিএস (অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রার অফ কো-অপারেটিভ সোসাইটি) অফিসারকে জানাই। সমিতির তরফে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। সেই তদন্তে শিবনাথ চৌধুরীর বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগ প্রমাণিত হয়।” তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনও পদক্ষেপ না হওয়ায় নন্দিতা শেষমেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তিনি বলেন, “অনেক জায়গায় জানানোর পরেও কিছু না হওয়ায় আমি হাইকোর্টে যাই। হাইকোর্টের নির্দেশেই প্রশাসন এখন ব্যবস্থা নিচ্ছে।”

অন্যদিকে, সমিতির ম্যানেজার প্রলয় চৌধুরী এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “টাকার সমস্ত হিসেব আমাদের কাছে আছে। সব কাগজপত্র রয়েছে। এটা মিথ্যা অভিযোগ।” গ্রেপ্তার হওয়া শিবনাথ চৌধুরীও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে ‘মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, “আমাকে ফাঁসানো হচ্ছে। কিছু সরকারি অফিসার এবং রাজনৈতিক দল মিলে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।” উল্লেখ্য, শিবনাথ চৌধুরী একসময় জেলা তৃণমূলের সহ-সভাপতি এবং কৃষ্ণনগর পুরসভার উপপ্রধানের পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন।

এই ঘটনায় হাইকোর্টের হস্তক্ষেপের পর প্রশাসন তৎপর হয়েছে। পুলিশ শিবনাথ চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে এই আর্থিক তছরুপের পরিমাণ ও এর পেছনে আরও কারা জড়িত থাকতে পারে, তা নিয়ে এখনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ। সমিতির সদস্যরা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা নদিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। তৃণমূলের একাংশের মধ্যেও এ নিয়ে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন সকলের নজর।