OMG! শুঁড়ে পেঁচিয়ে মাটিতে ছুড়ে ফেলল হাতি, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় রেল কর্মীর মৃত্যু

বন্যপ্রাণীর সঙ্গে রেলের সংঘর্ষ রুখতে ‘ইনট্রুশন ডিভাইস সিস্টেম’-এর মহড়া চলাকালীন এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল সন্দীপ চৌধুরী (৫৭)। বৃহস্পতিবার দুপুরে আলিপুরদুয়ারের রাজাভাতখাওয়ায় কুনকি হাতির পায়ের তলায় পিষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে রেল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের মধ্যে।

ঘটনার দিন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আলিপুরদুয়ার জংশন স্টেশন থেকে উত্তরে রাজাভাতখাওয়ার মধুগাছ তলায় ‘ইনট্রুশন ডিভাইস সিস্টেম’-এর কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য মহড়ার আয়োজন করা হয়েছিল। এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি বন্যপ্রাণী, বিশেষ করে হাতির সঙ্গে ট্রেনের সংঘর্ষ ঠেকাতে কতটা কার্যকর, তা পরীক্ষা করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু দুপুর দেড়টা নাগাদ এই মহড়া চলাকালীনই ঘটে যায় অপ্রত্যাশিত এই দুর্ঘটনা।

মহড়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের জেনারেল ম্যানেজার চেতন শ্রীবাস্তব-সহ শীর্ষ রেল কর্মকর্তারা। পরীক্ষার জন্য দুটি কুনকি হাতি—‘জোনাকি’ ও ‘মমতাজ’—কে নিয়ে আসা হয়। রেলপথের পূর্ব দিকে ছিল ‘মমতাজ’ এবং পশ্চিম দিকে রাখা হয়েছিল ‘জোনাকি’। ঠিক সেই সময় নিউ জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার জংশনগামী আপ ভিস্তাডোম ট্যুরিস্ট স্পেশাল ট্রেন রাজাভাতখাওয়া থেকে জংশনের দিকে এগিয়ে আসছিল। রেল লাইনের পশ্চিম ধারে ‘জোনাকি’র কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন বেসরকারি সংস্থার কারিগরি আধিকারিক সন্দীপ চৌধুরী। ট্রেনটি কাছে আসতেই হঠাৎ ‘জোনাকি’ তাঁকে শুঁড়ে তুলে মাটিতে ফেলে পায়ের তলায় পিষে দেয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় সন্দীপ চৌধুরীকে দ্রুত আলিপুরদুয়ার জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। জানা গেছে, তিনি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার গৌতম বুদ্ধ নগরের বাসিন্দা ছিলেন।

‘জোনাকি’র মাহুত অসিত কার্জি ঘটনার জন্য দায়ী করেছেন সন্দীপের অসাবধানতাকে। তিনি বলেন, “আমি বারবার সাবধান করেছিলাম, কিন্তু তিনি আমার কথা শোনেননি। তিনি মোবাইলে কথা বলতে ব্যস্ত ছিলেন। ট্রেনটা কাছে আসতেই ‘জোনাকি’ ভয় পেয়ে ঘাবড়ে যায়। তারপরই এই বিপত্তি ঘটে। আমি হাতিকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো সুযোগই পাইনি।”

এই ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ হতবাক। মহড়ার মাঝে এমন দুর্ঘটনায় কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়। সন্দীপ চৌধুরীর মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনা ‘ইনট্রুশন ডিভাইস সিস্টেম’-এর মহড়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার কারণ ও দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।