“হাতে ক্যামেরা, কাছেই সিংহ”-প্রধানমন্ত্রী মোদী গির অরণ্যে করলেন জঙ্গল সাফারি

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে সোমবার (৩ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুজরাটের গির জাতীয় উদ্যানে একটি সিংহ সাফারিতে অংশ নিয়েছেন। সাসান গিরে পৌঁছে তিনি একটি খোলা জিপে চড়ে সাফারিতে যান এবং হাতে ক্যামেরা নিয়ে এশিয়াটিক সিংহের একের পর এক ছবি তুলতে দেখা গেছে। এই সফরের মাধ্যমে তিনি গুজরাটের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ওপর জোর দিয়েছেন, যা এই রাজ্যকে বিশ্বের একমাত্র এশিয়াটিক সিংহের আবাসস্থল হিসেবে বিখ্যাত করেছে।

সিংহ সংরক্ষণে গুজরাটের উদ্যোগ
গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন নরেন্দ্র মোদী সাসান গিরকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। বর্তমানে গুজরাটের ৯টি জেলার ৫৩টি তালুক জুড়ে প্রায় ৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় এশিয়াটিক সিংহের বিচরণ। ২০০৭ সালে গির অঞ্চলের উন্নয়ন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য গুজরাট সরকার যে পদক্ষেপগুলি নিয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল:

গ্রেটার গির ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন টাস্ক ফোর্স: এই টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয় বন্যপ্রাণী অপরাধ নজরদারি এবং সিংহ সংরক্ষণে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।

বৃহত্তর গির প্রকল্প: এই প্রকল্পের মাধ্যমে গির জাতীয় উদ্যানের বাইরে ৩০,০০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সিংহ সংরক্ষণের পরিকল্পনা করা হয়।

মহিলা বিটগার্ড নিয়োগ: গির অঞ্চলে প্রথমবারের মতো মহিলা বিটগার্ড ও ফরেস্টার নিয়োগ করা হয়। বর্তমানে ১১১ জন মহিলা এখানে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন।

গুজরাট রাজ্য সিংহ সংরক্ষণ সমিতি (GSLCS): এই সমিতি জনসাধারণের অংশগ্রহণ বাড়াতে এবং ইকো-ট্যুরিজমের আয় সংরক্ষণে ব্যবহারের জন্য গঠিত হয়।

বন্যপ্রাণ মিত্র প্রকল্প: সিংহের চলাচল পর্যবেক্ষণ এবং বন বিভাগের উদ্ধার ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য এই প্রকল্প চালু হয়।
মোদীর গির সফর ও কর্মসূচি

সাফারি শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদী সাসানের ‘সিং সদন’-এ ফিরে জাতীয় বন্যপ্রাণী বোর্ডের সপ্তম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। এই বৈঠকে সেনাপ্রধান, বিভিন্ন রাজ্যের প্রতিনিধি, এনজিও এবং বন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকের পর তিনি গিরে কর্মরত মহিলা বনকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন, যা নারীদের সংরক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের প্রতি তাঁর সমর্থনের প্রতীক। এরপর তিনি সোমনাথ মন্দির পরিদর্শন করেন এবং বিকেলে রাজকোট থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন।

প্রধানমন্ত্রী মোদী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, “বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে আমাদের গ্রহের অবিশ্বাস্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও সংরক্ষণের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। প্রতিটি প্রজাতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে—আসুন আমরা আগামী প্রজন্মের জন্য তাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করি। আমরা ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অবদানের জন্যও গর্বিত।”

গুজরাটের সাফল্য
গুজরাট সরকারের তথ্য অনুযায়ী, সিংহ সংরক্ষণে গৃহীত পদক্ষেপের ফলে গত কয়েক বছরে এশিয়াটিক সিংহের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০ সালের গণনায় এই সংখ্যা ৬৭৪-এ পৌঁছেছে। এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকার ‘প্রজেক্ট লায়ন’-এর জন্য ২,৯০০ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ করেছে, যা সিংহ সংরক্ষণে আরও গতি আনবে। জুনাগড়ে ২০.২৪ হেক্টর জমিতে একটি জাতীয় বন্যপ্রাণী রেফারেল সেন্টার এবং সাসানে একটি উচ্চ প্রযুক্তির হাসপাতাল স্থাপনও এই প্রচেষ্টার অংশ।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর গিরের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে গুজরাটের অগ্রগতি এবং ভারতের জীববৈচিত্র্য রক্ষার প্রতিশ্রুতিকে আরও একবার তুলে ধরল।