উত্তপ্ত ১০ মিনিটে যেভাবে ভেস্তে গেল ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক, জেনেনিন সম্পূর্ণ ঘটনা

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে খনিজ সম্পদ চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে। এই বৈঠকটি উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং রাজনৈতিক তর্কে পরিণত হয়, যা শেষ পর্যন্ত চুক্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে দেয়। জেলেনস্কি এই বৈঠকে মার্কিন সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশের চাপ এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরামর্শের মুখোমুখি হন।
কী ঘটেছিল বৈঠকে?
জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্র-ইউক্রেন খনিজ সম্পদ চুক্তি চূড়ান্ত করতে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক পুনরুদ্ধার এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার আশা ছিল। তবে, বৈঠকের শুরুতে ইতিবাচক আলোচনার পরিবেশ থাকলেও দ্রুতই তা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে পরামর্শ দেন। জেলেনস্কি এই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভ্যান্স জেলেনস্কিকে মার্কিন গণমাধ্যমের সামনে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করার অভিযোগ করেন এবং বৈঠক শেষে জেলেনস্কিকে হোয়াইট হাউজ ছেড়ে যেতে বলা হয়।
উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের চারটি মূল বিষয়
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই বৈঠকের চারটি মূল বিষয় উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের সূত্রপাত ঘটায়:
১) জেলেনস্কি ও ভ্যান্সের মধ্যে উত্তেজনা
বৈঠকের শুরুতে আধা ঘণ্টা আন্তরিক আলোচনা চলার পর ভ্যান্স জেলেনস্কিকে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধবিরতির পরামর্শ দেন। জেলেনস্কি এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, “২০১৯ সালে আমরা পুতিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছিলাম, কিন্তু রাশিয়া তা মানেনি। কেউ তাকে থামায়নি।” এই উত্তরে ভ্যান্স ক্ষুব্ধ হন এবং জেলেনস্কিকে ‘অসম্মানজনক আচরণ’ করার অভিযোগ করেন।
২) “আমাদের পরিণতি কী হবে সেটা আপনাকে বলতে হবেনা”
জেলেনস্কি ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেন, “রাশিয়াকে তুষ্ট করুন, যুদ্ধ আপনার কাছেই ফিরে আসবে।” এই মন্তব্যে ট্রাম্প রেগে যান এবং জেলেনস্কিকে বলেন, “আমাদের পরিণতি আপনাকে বলতে হবেনা। এভাবে বলার মত অবস্থান আপনার নেই।”
৩) “আপনি একা ছিলেন না”
জেলেনস্কি বলেন, “যুদ্ধের শুরু থেকেই আমরা একা ছিলাম।” ট্রাম্প পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, “আপনি একা ছিলেন না। আমরা আপনাকে ৩৫ হাজার কোটি ডলার দিয়েছি।”
৪) জেলেনস্কির পাল্টা ধাক্কা
জেলেনস্কি ট্রাম্পের সমালোচনা এবং যুক্তি উপস্থাপন করতে থাকেন, যা ট্রাম্প এবং ভ্যান্সকে আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে। ট্রাম্প বলেন, “এভাবে কাজ করা খুব কঠিন। এটি একটি কঠিন চুক্তি হতে যাচ্ছে।”
চুক্তির ভবিষ্যৎ
খনিজ সম্পদ চুক্তি নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে ইউক্রেনের সঙ্গে মার্কিন সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের আশা ছিল, কিন্তু উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের কারণে তা ভেস্তে গেছে। এখন এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জেলেনস্কির ওয়াশিংটন সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় এবং চুক্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার পর ইউক্রেনের জন্য মার্কিন সহায়তা এবং ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা এবং ইউক্রেনের সংকট নিয়ে আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে।