মহা শিবরাত্রিতে কতক্ষণ জল ঢালতে পারবেন শিবের মাথায়? শিব চতুর্দশী তিথি শেষ হবে কখন?

হিন্দু ধর্মে দেবাদিদেব মহাদেব শিবকে সর্বোচ্চ স্থান দেওয়া হয়। তাঁর পুজোর সবচেয়ে বড় দিন হল মহাশিবরাত্রি। বিশ্বাস, এই দিনে ভক্তি ভরে শিবের আরাধনা করলে ভোলেনাথ তাঁর ভক্তদের মনের ইচ্ছা পূরণ করেন এবং অফুরন্ত আশীর্বাদ বর্ষণ করেন। মাঘ মাসের কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে পালিত হয় এই উৎসব। এ বছর মহাশিবরাত্রি আসছে ২৬ ফেব্রুয়ারি, বুধবার।

শিবভক্তদের কাছে এই দিনটি অত্যন্ত পবিত্র। পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, এই দিনটি শিব ও পার্বতীর বিবাহের প্রতীক। ‘শিবরাত্রি’ শব্দটি এসেছে ‘শিব’ ও ‘রাত্রি’ থেকে, যার অর্থ শিবের জন্য উৎসর্গিত রাত। কথিত আছে, এই দিনে মহাদেবের সঙ্গে পার্বতীর মিলন হয়েছিল। আবার এমনও শোনা যায়, এই তিথি থেকেই শিব বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি শুরু করেন। পুরাণে বলা হয়, যজ্ঞের মধ্যে অশ্বমেধ যজ্ঞ, তীর্থের মধ্যে গঙ্গা যেমন শ্রেষ্ঠ, তেমনই ব্রতের মধ্যে শিব চতুর্দশীর ব্রত সর্বোত্তম। এই ব্রত পালন করলে ধর্ম, অর্থ, কাম ও মোক্ষ—এই চার ফল লাভ হয়।

মহাশিবরাত্রির তিথি ও সময়
এ বছর মহাশিবরাত্রির তিথি শুরু হবে ২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯:৪২ মিনিটে এবং চলবে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮:৩১ মিনিট পর্যন্ত। শাস্ত্রে বলা হয়, চার প্রহরে শিবের পুজো করলে ভক্তরা পাপ থেকে মুক্তি পান এবং জীবনের চার মূল লক্ষ্য অর্জন করেন।

চার প্রহরের পুজোর সময়সূচি
প্রথম প্রহর: সন্ধ্যা ৬:১৯ মিনিট থেকে রাত ৯:২৬ মিনিট
দ্বিতীয় প্রহর: রাত ৯:২৬ মিনিট থেকে মধ্যরাত ১২:৩৪ মিনিট
তৃতীয় প্রহর: মধ্যরাত ১২:৩৪ মিনিট থেকে ভোর ৩:৪১ মিনিট (২৭ ফেব্রুয়ারি)
চতুর্থ প্রহর: ভোর ৩:৪১ মিনিট থেকে সকাল ৬:৪৮ মিনিট (২৭ ফেব্রুয়ারি)

শিবরাত্রির ব্রত পালনের নিয়ম
শি�বরাত্রির আগের দিন থেকে সংযম পালন করতে হয়। এই দিনে আমিষ খাবার বা সিদ্ধ চালের ভাত খাওয়া নিষেধ। আতপ চালের ভাত বা ময়দার খাবার খাওয়া যায়, তবে রান্নায় সন্দক লবণ ব্যবহার করতে হবে। সাধারণ লবণ এড়িয়ে চলাই নিয়ম। ব্রতের দিন উপবাস করে নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো করলে শিব ভক্তের প্রার্থনা শোনেন।

শিবরাত্রির পুজোর উপকরণ
শিবের পুজোয় গঙ্গাজল, দুধ, ঘি, মধু ও চিনির মিশ্রণ দিয়ে অভিষেক করা হয়। পুরাণে বলা আছে, কৃষ্ণপক্ষের চতুর্দশী তিথিতে মহাদেব পৃথিবীর কল্যাণ করেন। তাই এই দিনে শিবলিঙ্গে জল, বেলপত্র, ধুতরা ইত্যাদি উৎসর্গ করে ভক্তরা তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।

মহাশিবরাত্রি শুধু পুজোর দিন নয়, এটি ভক্তি ও আধ্যাত্মিকতার এক মহোৎসব। ভক্তরা এই দিনে শিবের কাছে তাঁদের দুঃখ-কষ্ট দূর করার প্রার্থনা করেন এবং জীবনে শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।