“সুন্দরী তম্বি থেকে হয়ে গেছেন রোগা!”- ফ্যাশনের পেছনে ছুটে নিজের বিপদ ডাকলেন গায়িকা

গ্ল্যামারের দুনিয়ায় টিকে থাকা তারকাদের জন্য সহজ কথা নয়। মডেল বা অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার ময়দানে নিজেকে সেরা দেখাতে কঠোর ডায়েট, নিয়মিত শরীরচর্চা, এমনকি কখনও কখনও শরীরের ওপর চাপ সৃষ্টিকারী ট্রিটমেন্টও গ্রহণ করতে হয়। কিন্তু সৌন্দর্য বাড়াতে গিয়ে অনেক সময় এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়, যার পরিণতি হয়ে ওঠে ভয়াবহ। সম্প্রতি আমেরিকান গায়িকা-অভিনেত্রী আরিয়ানা গ্র্যান্ডের শারীরিক অবস্থা দেখে এমনই আশঙ্কা জেগেছে অনেকের মনে।
লন্ডনে অনুষ্ঠিত ব্রিটিশ অ্যাকাডেমি ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডস (বাফটা) ২০২৫-এর রেড কার্পেটে হাজির হয়েছিলেন আরিয়ানা গ্র্যান্ডে। তিনি পরেছিলেন লুই ভিতঁ-এর ডিজাইন করা একটি কালো ও গোলাপি রঙের জমকালো গাউন। কিন্তু তারকার এই চমকপ্রদ পোশাকের নিচে যে শারীরিক অবস্থা ফুটে উঠেছে, তা দেখে সকলেই হতবাক। আরিয়ানার গাল ক্ষীণ, বুকের হাড় স্পষ্ট, যেন কঙ্কালসার একটি চেহারা। এই দৃশ্য দেখে ভক্ত-অনুরাগী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন উঠেছে—তাহলে কি ওজন কমাতে গিয়ে বিপদ ডেকে এনেছেন এই তারকা?
একদিকে যেখানে আরিয়ানা তার ক্যারিয়ারের শীর্ষে রয়েছেন—তার অভিনীত চলচ্চিত্র ‘উইকড’ ২০২৫-এর অস্কারে ১০টি মনোনয়ন পেয়েছে—সেখানে তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। অনেকে মনে করছেন, অত্যধিক ব্যস্ততা ও কাজের চাপে শরীরের ওপর প্রভাব পড়েছে। তবে আরিয়ানার ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ।
আরিয়ানার এক পুরোনো সহকর্মী পেজ সিক্স-এর সঙ্গে আলাপে বলেছেন, “এই ব্যস্ততা শারীরিকভাবে অত্যন্ত কঠিন। শরীর বোঝেই না কখন খাওয়ার প্রয়োজন। যখন ঘুমানোর কথা, তখন জেগে থাকতে হয়, আর যখন জাগার কথা, তখন ঘুম আসে। এর সঙ্গে ফ্যাশনের চাহিদা—চুল, মেকআপ, নখ—সবকিছু অবিরাম চলতে থাকে। এটা অমানবিক।” তিনি আরও যোগ করেন, “এমন সময়সূচীতে শরীর ও মনের যত্ন নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিটি কথা বলার আগে ভাবতে হয়, ‘এটা বললে কীভাবে বোঝানো হবে?’ মস্তিষ্ক কখনও বিশ্রাম পায় না।”
আরিয়ানার সঙ্গে কাজ করা আরেক ব্যক্তি জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগের সঙ্গে লড়াই করেছেন। তবে তিনি সবসময় নিজেকে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাচ্ছন্দ্যে উপস্থাপন করেছেন। “আমরা কখনও ভাবিনি তিনি তার চেহারা নিয়ে অসন্তুষ্ট বা সমস্যায় আছেন,” বলেন তিনি। হলিউড রিপোর্টারের একটি পডকাস্টে আরিয়ানা নিজেও তার মানসিক স্বাস্থ্যের সংগ্রামের কথা বলেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৮-১৯ সালে ‘সুইটনার’ ও ‘থ্যাঙ্ক ইউ, নেক্সট’ অ্যালবাম দুটি মাত্র ছয় মাসের ব্যবধানে মুক্তি পায়। “আমি অনেক থেরাপি করছিলাম। পিটিএসডি, হতাশা, উদ্বেগ—সব মিলিয়ে আমার জন্য কঠিন সময় ছিল। সঙ্গীত আমার জীবন বাঁচাতে সাহায্য করেছে,” বলেন তিনি।
আরিয়ানার ভক্তরা সামাজিক মাধ্যমে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন। অনেকে লিখেছেন, “আমরা তার শরীর নিয়ে কথা বলার কে? তার জীবনে কী চলছে তা আমরা জানি না।” তবে কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, “আশা করি তিনি ঠিক আছেন। দেখে মনে হচ্ছে না তিনি ভালো আছেন।”
আরিয়ানা অবশ্য এর আগে শরীর নিয়ে সমালোচনার জবাবে বলেছিলেন, “আমি আগের চেয়ে সুস্থ। সুস্থ দেখতে কেমন, তা সবার জন্য আলাদা।” তার এই বক্তব্য সত্ত্বেও বাফটার রেড কার্পেটে তার চেহারা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মানসিক চাপ, ব্যস্ততা, না কি অন্য কোনো কারণ—আরিয়ানার এই অবস্থার পেছনের সত্য এখনও স্পষ্ট নয়।