“কোচবিহারে ভোটার বাড়ল ৬৪ হাজার”- বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষা কেন্দ্রে বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি

সম্প্রতি ভোটার তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নাম ঢোকানোর অভিযোগে রাজ্য রাজনীতিতে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই ইস্যুতে সরব হয়েছেন। অন্যদিকে, বিজেপি দাবি করেছে, ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম ঢুকিয়েছে তৃণমূল। এই চাপানউতোরের মধ্যে কোচবিহারে গত এক বছরে প্রায় ৬৪ হাজার নতুন ভোটার বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোচবিহারে ভোটার বৃদ্ধির হিসেব
কোচবিহার জেলায় বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ২৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ৫৯০ জন। ২০২৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র এক বছরে ভোটার বেড়েছে ৬৩ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোটার বৃদ্ধি দেখা গিয়েছে সীমান্তবর্তী শীতলকুচি বিধানসভা এলাকায়, যেখানে ১০ হাজার ৮১৪ জন নতুন ভোটার যুক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে মাথাভাঙ্গায় ৮ হাজার ৩৮৬ জন এবং তুফানগঞ্জে ৮ হাজার ৫২ জন। উল্লেখযোগ্যভাবে, শীতলকুচি ও তুফানগঞ্জ—দুটিই বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন।

জেলায় সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে শীতলকুচিতে। এরপর দ্বিতীয় স্থানে সীমান্তের আরেক বিধানসভা দিনহাটা এবং তৃতীয় স্থানে সিতাই। অর্থাৎ, ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেই ভোটার সংখ্যা বেশি বেড়েছে। পাশাপাশি, ভুয়ো, মৃত ও অন্যত্র স্থানান্তরিত ভোটারের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১৫১ জন বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূল ও বিজেপির পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
রবিবার দিনহাটায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহ বিরোধীদের উদ্দেশে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিরোধীদের হাঁটুতে জল জমিয়ে দেব। সরকারি আধিকারিকদের সূর্যের মুখ দেখতে দেব না।” তিনি আরও জানান, “সীমান্ত পাহারার দায়িত্ব বিএসএফ-এর। অনুপ্রবেশকারীরা যদি সীমান্ত পেরিয়ে আসে, তার দায় কেন্দ্রের। কোনও এলাকায় বেশি বা ভুয়ো ভোটার থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে। আন্দোলনও হবে।”

অন্যদিকে, বিজেপি বিধায়ক সুকুমার রায় অভিযোগ করেছেন, “সংখ্যালঘু এলাকায় প্রতিটি বুথে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভোটার রয়েছে। এরা সবাই সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে। ওপারে তাঁদের নামও রয়েছে। তৃণমূল এই অনুপ্রবেশকারীদের ভোটার তালিকায় নাম তুলেছে।” বিজেপির দাবি, কোচবিহারে হঠাৎ ভোটার বৃদ্ধি তৃণমূলের পরিকল্পিত কৌশল।

সীমান্ত এলাকায় ভোটার বৃদ্ধির রহস্য
কোচবিহারের সীমান্তবর্তী বিধানসভাগুলোতে ভোটার বৃদ্ধির এই তথ্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে শীতলকুচি, তুফানগঞ্জ ও দিনহাটার মতো এলাকায় ভোটার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ায় অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, এই ভুয়ো ভোটার ঢোকানোর পেছনে বিরোধীদের হাত থাকতে পারে। পাল্টা বিজেপি বলছে, তৃণমূলই ভোটের স্বার্থে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে এসেছে।

তদন্তের দাবি
এই ঘটনায় তৃণমূল ও বিজেপি উভয়ই তদন্তের দাবি জানিয়েছে। উদয়ন গুহ জানিয়েছেন, ভোটার তালিকা খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনে আন্দোলনও করা হবে। বিজেপি নেতৃত্বও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ চেয়েছে। এদিকে, জেলা প্রশাসনের তরফে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

কোচবিহারে ভোটার বৃদ্ধির এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। সীমান্ত এলাকায় এই অস্বাভাবিক পরিসংখ্যানের পেছনে কী রহস্য, তা নিয়ে তদন্তে কী উঠে আসে, সেদিকে নজর রয়েছে সকলের।