পিসি শাশুড়িকে টুকরো করেছে কে? মা-মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ পুলিশের, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

মধ্যমগ্রামে ঝগড়ার জেরে পিসি শাশুড়ি সুস্মিতা ঘোষকে (৫৫) ইট দিয়ে থেঁতলে খুন করেন ফাল্গুনী ঘোষ। এরপর দেহ লোপাট করতে মা আরতি ঘোষের সঙ্গে মিলে বঁটি দিয়ে মৃতদেহের গোড়ালি কাটেন তাঁরা। টুকরো করা সেই দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে গঙ্গায় ফেলতে গিয়েছিলেন মা-মেয়ে। কিন্তু কুমোরটুলি ঘাটে স্থানীয়দের তৎপরতায় ধরা পড়ে যায় তাঁরা। পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

মঙ্গলবার সকালে কুমোরটুলি ঘাটে একটি ট্রলি ব্যাগ থেকে কাটা দেহ উদ্ধারের পর গ্রেফতার হন ফাল্গুনী ঘোষ ও তাঁর মা আরতি ঘোষ। ধৃতদের জেরায় জানা গিয়েছে, মৃত সুস্মিতা ফাল্গুনীর পিসি শাশুড়ি। ঘটনার পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক অশান্তি ও বিবাদ জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।

ঘটনার শুরু মধ্যমগ্রামে
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ফাল্গুনীর স্বামীর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বনিবনা ছিল না। তাঁর শ্বশুরবাড়ি পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাটে। গত কয়েক বছর ধরে মধ্যমগ্রাম পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বীরেশ পল্লিতে ভাড়া বাড়িতে আলাদা থাকছিলেন ফাল্গুনী। গত ১১ ফেব্রুয়ারি তাঁর মা আরতি মেয়ের কাছে আসেন। এরপর সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ফাল্গুনীর বাড়িতে আসেন পিসি শাশুড়ি সুস্মিতা। তিনি কেন এসেছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, ফাল্গুনীই তাঁকে ফোন করে ডেকে থাকতে পারেন।

সোমবার বিকেল ৪টে নাগাদ সুস্মিতার সঙ্গে ফাল্গুনীর তুমুল বচসা শুরু হয়। এর মধ্যে দেওয়ালে ধাক্কা লেগে সুস্মিতা অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরলে ফের তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এই সময় ফাল্গুনী ইট দিয়ে শাশুড়ির ঘাড়ে ও মুখে আঘাত করেন, যাতে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিক তদন্তে এমনটাই জানতে পেরেছে পুলিশ।

দেহ লোপাটের পরিকল্পনা
মৃত্যুর পর সুস্মিতার দেহ কীভাবে সরানো হবে, তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন ফাল্গুনী। এরপর মা আরতির সঙ্গে পরামর্শ করে বঁটি দিয়ে দেহের গোড়ালি কাটা হয়। টুকরো করা দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে তাঁরা ট্যাক্সি করে কুমোরটুলি ঘাটে পৌঁছান। পরিকল্পনা ছিল ব্যাগটি গঙ্গায় ভাসিয়ে দেওয়ার। কিন্তু প্রাতঃভ্রমণকারী ও স্থানীয়দের সতর্কতায় তাঁরা ধরা পড়ে যান। উদ্ধার হওয়া দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।

তদন্তে উঠছে প্রশ্ন
এই ঘটনায় বেশ কিছু প্রশ্ন উঠে আসছে। সুস্মিতা কেন ফাল্গুনীর বাড়িতে গিয়েছিলেন? খুনের পরিকল্পনা কি আগে থেকে করা হয়েছিল? ফাল্গুনী ও সুস্মিতার মধ্যে বিবাদের মূল কারণ কী ছিল? পুলিশ এখন এই সব দিক খতিয়ে দেখছে।

প্রতিবেশীদের বক্তব্য
এদিন বারাসত পুলিশ জেলার এসডিপিও বিদ্যাগড় অজিঙ্কা আনন্ত ফাল্গুনীর বাড়িতে যান। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে মধ্যমগ্রামে ভাড়া বাড়িতে থাকছিলেন ফাল্গুনী ও আরতি। পাড়ার কারও সঙ্গে তাঁরা বিশেষ মিশতেন না। প্রতিবেশীদের দাবি, ফাল্গুনীর বাড়িতে অচেনা লোকজনের আনাগোনা ছিল, যা নিয়ে পাড়ার লোকজন প্রতিবাদও করেছিলেন। বাড়ি ভাড়ার চুক্তি আগামী মার্চে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তদন্তে কী উঠে আসবে?
কলকাতা পুলিশ এই ঘটনার তদন্তে নেমে একের পর এক তথ্য উদঘাটন করছে। সুস্মিতার মৃত্যুর আসল কারণ ও খুনের পেছনের উদ্দেশ্য জানতে তৎপর পুলিশ। এই ঘটনা এলাকায় তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে।