মুখ্যমন্ত্রী রেখার ব্রহ্মাস্ত্র! CAG রিপোর্ট পেশ করতেই সাসপেন্ড ১২ AAP বিধায়ক

নির্বাচন শেষ। নতুন সরকারও গঠিত। কিন্তু রাজনৈতিক উত্তাপ কমার বদলে আরও বেড়েছে রাজধানীর বুকে। সোমবার থেকেই দিল্লির বিধানসভায় শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক বিতর্ক।

বিজেপি নির্বাচনের সময়ই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, আপ সরকারের একাধিক দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনবে। এবার সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত করল পদ্ম শিবির।

বিধানসভায় আয়োজিত তিন দিনের বিশেষ অধিবেশনে আপ সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া ‘আবগারি দুর্নীতি’ নিয়ে ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করেছে বিজেপি।মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্ত নিজেই বিধানসভায় এই রিপোর্ট প্রকাশ করেন।এরপরই আপ বিধায়করা বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অধ্যক্ষ থামানোর চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।অম্বেডকরের ছবি সরানোর অভিযোগে পাল্টা আক্রমণ আপের বিজেপির রিপোর্ট প্রকাশের পাল্টা হিসেবে আপ অম্বেডকরের ছবি সরিয়ে মোদীর ছবি বসানোর ইস্যুতে প্রতিবাদ শুরু করে।

আপের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের ঘর থেকে বাবা সাহেব অম্বেডকরের ছবি সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিধানসভায় আরও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।১২ আপ বিধায়ক সাসপেন্ড, প্রতিবাদ চলল বিধানসভার বাইরেও হট্টগোল এবং উত্তেজনার জেরে আপের ১২ জন বিধায়ককে এক দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশি মারলেনাও।

কিন্তু সাসপেন্ড হওয়ার পরেও আপ বিধায়কদের প্রতিবাদ থামেনি।বিধানসভা চত্বরে বাবা অম্বেডকরের ছবি হাতে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা।অতিশি কটাক্ষ করে বলেন,”মোদী কি বাবা অম্বেডকরের থেকেও বড়? তিনি কি এতটাই ঔদ্ধত্য দেখাতে পারেন যে, অম্বেডকরের ছবি সরিয়ে নিজের ছবি বসিয়ে দেবেন?”

বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগ আমল না দিয়ে ক্যাগ রিপোর্টকেই সামনে রাখছে।বিজেপি নেতা প্রবেশ ভার্মা বলেন,”আমরা এতদিন যে রিপোর্টের অপেক্ষায় ছিলাম, সেটা সামনে চলে এসেছে। এবার সময় ঘনিয়ে এসেছে।”এখন প্রশ্ন, এই রাজনৈতিক সংঘাত কোথায় গিয়ে থামবে? আপ কি ক্যাগ রিপোর্টের চাপ সামলে উঠতে পারবে, নাকি বিজেপির দাবিতেই নতুন মোড় নেবে দিল্লির রাজনীতি?