সব স্বপ্ন শেষ! পরের বছরই মাধ্যমিক, স্কুলে যাওয়ার পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কিশোরীর

মাত্র ১৬ বছর বয়স। সব ঠিক থাকলে আগামী বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার কথা ছিল শ্রী নিধির। কিন্তু তার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। তেলেঙ্গানার কামারেডি জেলায় স্কুলে যাওয়ার পথে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন দশম শ্রেণির এই ছাত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে শ্রী নিধি হেঁটে স্কুলের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তিনি রামারেডি মণ্ডলের সিঙ্গারায়াপল্লি গ্রামের বাসিন্দা। পড়াশোনার জন্য কামারেডির একটি বেসরকারি স্কুলে থাকতেন তিনি। স্কুলের কাছে পৌঁছনোর সময় হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন শ্রী নিধি। এরপরই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।

স্কুলের একজন শিক্ষক বিষয়টি লক্ষ্য করে তৎক্ষণাৎ তাঁকে কাছের হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিক চিকিৎসার পাশাপাশি সিপিআর (কার্ডিওপালমোনারি রিসাসিটেশন) দেওয়া হয়। কিন্তু কোনো সাড়া না মেলায় তাঁকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্বিতীয় হাসপাতালে পৌঁছনোর পর শ্রী নিধিকে মৃত ঘোষণা করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

শ্রী নিধির এই অকাল মৃত্যুতে শোকাহত তাঁর স্কুলের শিক্ষক ও সহপাঠীরা। ফুটফুটে এই কিশোরীর হৃদরোগে মৃত্যুতে মর্মাহত তাঁর বন্ধুরাও। তাঁর মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে। কয়েক মাস আগে আলিগড়ের সিরাউলি গ্রামে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র মোহিত চৌধুরী (১৪) বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এছাড়া, একই জেলায় আট বছরের দীক্ষা নামে এক শিশু বন্ধুদের সঙ্গে খেলার সময় হৃদরোগে প্রাণ হারায়।

চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, যদি কোনো সুস্থ ব্যক্তি এক ঘণ্টার মধ্যে মারা যান, তবে তাকে ‘হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’ বলা হয়। গত ২০ বছরে এই ধরনের ঘটনা ২২ শতাংশ বেড়েছে। তাঁরা সতর্ক করে বলেছেন, “যদি কোনো শিশু শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথার কথা জানায়, তবে তা অবহেলা না করে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।”

শ্রী নিধির এই অকাল মৃত্যু শুধু তাঁর পরিবার ও স্কুল সম্প্রদায়ের জন্যই নয়, সকলের জন্যই একটি সতর্কতার ঘণ্টি। কম বয়সে হৃদরোগের এই ঘটনা চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদেরও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।