বিদেশে ডাক্তারি পড়তে গেলে কি NEET পরীক্ষায় পাশ করতেই হবে? কি জানালো সুপ্রিম কোর্ট

বিদেশে মেডিক্যাল কোর্সে পড়তে চাইলেও সর্বভারতীয় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET-UG) পাশ করতে হবে। ২০১৮ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (MCI) যে নিয়ম জারি করেছিল, তাকে বৈধ বলে রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি বিআর গভাই এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, এই নিয়ম স্বচ্ছ, ন্যায্য এবং আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

২০১৮ সালে MCI জানিয়েছিল, ভারতের মেডিক্যাল কলেজে ভরতির জন্য যেমন NEET-এ উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক, তেমনই বিদেশের কোনো প্রতিষ্ঠানে স্নাতক স্তরে ডাক্তারি পড়তে গেলেও এই পরীক্ষায় পাশ করতে হবে। এই নিয়মের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হলেও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দিয়ে MCI-র সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেছে।

শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, NEET-এর যোগ্যতা অর্জনের এই শর্ত কোনোভাবেই আইন বা সংবিধানের লঙ্ঘন করছে না। আদালতের মতে, এটি ভারতীয় মেডিক্যাল কাউন্সিল আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ন্যায্য প্রক্রিয়া নিশ্চিত করে। বিদেশে পড়তে যাওয়া পড়ুয়ারা এই নিয়মের কারণে প্র্যাকটিসের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন না। সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে, MCI-র নিয়মে হস্তক্ষেপের কোনো কারণ নেই। ফলে এই বিষয়ে দায়ের করা সমস্ত মামলা খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, গত কয়েকদিন আগে দিল্লি হাইকোর্টও NEET সংক্রান্ত একটি আবেদন শুনতে অস্বীকার করেছে। JEE (জয়েন্ট এন্ট্রান্স এক্সামিনেশন)-এর মতো বছরে দু’বার NEET-UG আয়োজনের দাবিতে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় এবং বিচারপতি তুষার রাও গাদেলার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, এটি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক বিষয়। NEET বছরে একবার হবে নাকি দু’বার, সেটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত। এতে আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন নেই।

হাইকোর্ট আরও বলেছে, “আপনার আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিবেচনা করবে। দেশে আরও অনেক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা আছে, যেখানে প্রার্থীরা একবারের বেশি সুযোগ পান না।” এই রায়ে NEET-এর বর্তমান কাঠামোই বহাল থাকছে।

যে সমস্ত শিক্ষার্থী বিদেশে মেডিক্যাল পড়ার স্বপ্ন দেখছেন, তাঁদের জন্য NEET-UG এখন অপরিহার্য। ভারতে ফিরে প্র্যাকটিস করতে গেলে এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। আগামী NEET-UG 2025 পরীক্ষা মে মাসে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। আবেদন প্রক্রিয়া এবং ফি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য শীঘ্রই প্রকাশ করবে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA)।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে শিক্ষা ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও মান বজায় রাখার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।