ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের দরজা বন্ধ, কিনতে পারবেন না জমি! বড় সিদ্ধান্ত এই রাজ্য সরকারের

উত্তরাখণ্ডে এবার জমি কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় বিধিনিষেধ আসতে চলেছে। রাজ্য সরকার এক কঠোর সিদ্ধান্তে ভিন রাজ্যের বাসিন্দাদের জমি কেনার পথ বন্ধ করতে যাচ্ছে। বুধবার মন্ত্রিসভায় এই বিষয়ে একটি খসড়া বিল পাশ করা হয়েছে। চলতি বাজেট অধিবেশনেই এই বিল বিধানসভায় পেশ করা হতে পারে। বিলটি আইনে পরিণত হলে, কেবল উত্তরাখণ্ডের স্থায়ী বাসিন্দারাই রাজ্যে জমি কিনতে পারবেন, অন্য কোনও রাজ্যের নাগরিকদের এই অধিকার থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামী জানিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য রাজ্যের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করা। তিনি বলেন, “আমাদের সরকার উত্তরাখণ্ডের সংস্কৃতির প্রহরী। রাজ্যবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও তাদের অনুভূতির কথা মাথায় রেখে এই কঠোর জমি আইন আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটি রাজ্যের সম্পদ, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষিত করবে। উত্তরাখণ্ডের নিজস্ব পরিচিতি ধরে রাখতেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

খসড়া বিলে কী আছে?
হরিদ্বার ও উধম সিং নগর জেলা ছাড়া উত্তরাখণ্ডের বাকি ১১টি জেলায় ভিন রাজ্যের কেউ কৃষিজমি বা উদ্যানপালনের জমি কিনতে পারবেন না।
পাহাড়ি এলাকায় জমির জরিপ ও হিসাব করা হবে।
জমি বিক্রির অধিকার আর জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের হাতে থাকবে না।
জমি কেনা-বেচার জন্য একটি আলাদা পোর্টাল তৈরি করা হবে, যেখানে সমস্ত লেনদেনের হিসাব রাখা হবে।
ভিন রাজ্যের বাসিন্দারা সাধারণ জমি কিনলেও এফিডেভিট বা হলফনামা জমা দিতে হবে।
জেলাশাসকদের রেভেনিউ কাউন্সিল ও রাজ্য সরকারের কাছে নিয়মিত জমি লেনদেনের রিপোর্ট পেশ করতে হবে।
পৌরসভা এলাকায় জমির ব্যবহার সীমিত করা হবে।
কোনও জমিতে নিয়ম ভঙ্গ করে কাজ হলে, সরকার তা অধিগ্রহণ করতে পারবে।
২০১৮ সালে ত্রিবেন্দ্র সিং রাওয়াতের আমলে জারি করা জমি সংক্রান্ত সব নিয়ম বাতিল করা হবে।
উত্তরাখণ্ড বিধানসভার চলতি অধিবেশন আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে। তার আগেই এই বিল পেশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপকে অনেকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করছেন। তবে কেউ কেউ মনে করছেন, এটি বিনিয়োগ ও উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। স্থানীয়দের জন্য জমির অধিকার সুরক্ষিত হলেও, এই নিয়ম ভারতের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।