“চালাকি করে সাসপেন্ড”-দাবি করলেন অগ্নিমিত্রা, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে স্বাধীকার ভঙ্গের বিজ্ঞপ্তি TMC-র

সোমবার বিধানসভায় সরস্বতী পুজোয় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে মুলতুবি প্রস্তাব আনেন গেরুয়া শিবিরের বিধায়করা। এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আচমকা ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, তিনি বিধানসভার স্পিকারের দিকে কাগজ ছুঁড়েন, যা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। এর পরেই বিধানসভার মুখ্য সচেতক নির্মল ঘোষ জরুরি কাগজ ছিঁড়ে ফেলার এবং ছোড়ার ঘটনার জন্য বিরোধী দলনেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এই ঘটনায় শুভেন্দু অধিকারী, অগ্নিমিত্রা পাল, এবং আরও দুই বিধায়ককে ৩০ দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়। সোমবারের সাসপেনশনের পরই, আসানসোল দক্ষিণের বিজেপি বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পাল বিধানসভার বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সাসপেনশনের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।
অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, “সরস্বতী পুজো নিয়ে আলোচনা চেয়েছিলাম, কিন্তু আমাকে কেন সাসপেন্ড করা হল? অধ্যক্ষই যা কিছু করতে পারেন না, তা আমি করেছি। আমি বিধানসভার মধ্যে আইন-শৃঙ্খলার কোনও সমস্যা তৈরি করিনি। আমরা জনপ্রতিনিধি, আমাদের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু অধ্যক্ষ আলোচনা করতে দেন না। এই পরিস্থিতি তুষ্টীকরণের রাজনীতির ফলস্বরূপ।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে সেনা দাঁড় করিয়ে পুজো হয়, আর পশ্চিমবঙ্গে পুলিশ দাঁড় করিয়ে সরস্বতী পুজো করতে বলা হয়। মুখ্যমন্ত্রীর কোনও বিবৃতি নেই, এই নিয়ে বলার জন্য আমাদের সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমি আবারও বলব, যদি আবার এমন কিছু হয়, অধ্যক্ষের কাছে ফের অভিযোগ করব। বাংলার মানুষের পক্ষে কথা বললে সাসপেন্ড হওয়ার কোনও সমস্যা নেই, একশোবার সাসপেন্ড হলেও আমি কথা বলব।”
অগ্নিমিত্রা পাল আরও বলেন, “সাসপেন্ড হলেও, বাজেট অধিবেশনের বাকি দিনগুলোতে বিধানসভার বাইরে থাকব। বাজেট নিয়ে যে মিথ্যা কথা বলা হচ্ছে, তা শুনব এবং আপনাদের কাছে বলব।”
এই ঘটনায় রাজ্য বিধানসভায় রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে সরস্বতী পুজোর উপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে একাধিক বার অভিযোগ তোলা হয়েছে। রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে হিন্দু ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, শাসকদল এই ঘটনায় বিরোধী দলের আচরণকে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে।
এদিকে, সাসপেনশন নিয়ে বিজেপি দলের তরফ থেকে আরও কিছু বিধায়ক এবং সমর্থকরা সরব হয়েছে। রাজ্য রাজনীতির এই তীব্র উত্তেজনা আগামী দিনগুলিতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে।