কাশ্মীর সামলানোর পর এবার কাঁধে নির্বাচনী গুরুদায়িত্ব, চিনেনিন নতুন CEC জ্ঞানেশ কুমারকে?

সোমবার, এক বছরের জন্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পর, জ্ঞানেশ কুমারের নাম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন উচ্চ পর্যায়ের কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি রাজীব কুমারের জায়গায় এ পদে আসছেন। মঙ্গলবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

জ্ঞানেশ কুমারের পরিচয়
জ্ঞানেশ কুমার, ১৯৮৮ সালের কেরল ব্যাচের আইএএস অফিসার, ২০২৪ সালের ১৪ মার্চ নির্বাচন কমিশনে যোগ দেন। একদিন পরই, ১৫ মার্চ, তিনি অফিসে কাজে যোগ দেন এবং সেই সময়ে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হয়। গত এক বছরে তিনি লোকসভা ভোটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

এছাড়া, তিনি জম্মু ও কাশ্মীর, হরিয়ানা, ঝাড়খণ্ড, মহারাষ্ট্র, এবং দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনে কমিশনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার নেতৃত্বে, ২০২৯ সালের ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত মেয়াদে ২০টি বিধানসভা নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি এবং উপ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, এবং ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে।

জ্ঞানেশ কুমারের অভিজ্ঞতা
উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা জ্ঞানেশ কুমার কানপুর আইআইটি থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বি টেক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি ২০২৪ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সমবায় মন্ত্রকের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কর্মজীবনে তিনি সংসদীয় বিষয়ক সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জয়েন্ট ও অতিরিক্ত সচিব, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের জয়েন্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।

২০১2 থেকে ২০১৬ পর্যন্ত তিনি দিল্লির কেরল হাউসের রেসিডেন্ট কমিশনার ছিলেন এবং ২০১৮ থেকে ২০২১ পর্যন্ত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব ছিলেন। ওই সময়েই তিনি জম্মু ও কাশ্মীরে ৩৭০ ধারা রদ এবং দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বিভক্ত করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। তার উদ্যোগে জম্মু ও কাশ্মীর পুনর্গঠন বিলের খসড়া তৈরি করা হয়।

নরেন্দ্র মোদীর সরকারের আস্থাভাজন
জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বের প্রতি নরেন্দ্র মোদী সরকারের আস্থা তার ক্যারিয়ারের বিভিন্ন মাইলফলকে ফুটে ওঠে। তিনি সমবায় মন্ত্রকের সচিব থাকাকালীন মাল্টি স্টেট কোঅপারেটিভ সোসাইটিজ (MSCS) সংশোধনী আইন পাস করেন, যা সমবায় খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করে।

এদিন, তিনি নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে প্রস্তুত, এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন আরও শক্তিশালী হবে এবং আগামী দিনগুলোতে নিরপেক্ষ, মুক্ত ও সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনায় ভূমিকা রাখবে।