“ভারতের হাতে আসছে সেই কুখ্যাত জঙ্গি রানা”-ডোনাল্ড ট্রাম্প করলেন বড় ঘোষণা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি। তবে সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত হল ২৬/১১ মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত কুখ্যাত জঙ্গি নেতা তাহাউর রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণ করা হবে। ট্রাম্প নিজেই এই ঘোষণা করেছেন।
২০০৮ সালের মুম্বই হামলায় জড়িত একাধিক ষড়যন্ত্রকারীর মধ্যে অন্যতম তাহাউর রানা বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসের এক কারাগারে বন্দি। দীর্ঘদিন ধরেই ভারত সরকার তার প্রত্যর্পণের দাবি জানিয়ে আসছিল। অবশেষে মার্কিন প্রশাসন এই চুক্তিকে অনুমোদন দিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমার প্রশাসন একজন কুখ্যাত জঙ্গিকে ভারতের হাতে তুলে দেওয়ার চুক্তিতে অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্বের একজন শয়তান, যে ২০০৮ সালে মুম্বইয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছিল, এবার ভারতে বিচারের মুখোমুখি হবে।”
মুম্বই হামলার ষড়যন্ত্র ও তাহাউর রানার ভূমিকা
২৬ নভেম্বর, ২০০৮—এই দিনটি ভারতের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ দিন। লস্কর-ই-তৈবার জঙ্গিরা মুম্বইয়ের তাজ হোটেল, ছত্রপতি শিবাজী টার্মিনাস, নরিম্যান হাউস-সহ একাধিক স্থানে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ১৬৪ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে। এই হামলার পেছনে অন্যতম ষড়যন্ত্রকারী ছিল তাহাউর রানা, যিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
রানা একজন পাকিস্তানি ব্যবসায়ী, যার সরাসরি যোগাযোগ ছিল লস্কর-ই-তৈবা এবং পাক-আমেরিকান জঙ্গিনেতা ডেভিড কোলম্যান হেডলির সঙ্গে। হেডলির সঙ্গেই মিলে মুম্বই হামলার পরিকল্পনা করে রানা। লস্কর-ই-তৈবার সদস্য এই দুই জঙ্গির মিশন ছিল ভারতে সন্ত্রাসের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করা।
মার্কিন আদালতের রায় ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টে একাধিকবার আইনি লড়াই চালিয়েও পরাজিত হয় তাহাউর রানা। গত বছরের ১৩ নভেম্বর, রানা মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন, তবে আদালত তার আপিল খারিজ করে দেয়। অবশেষে ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর এই প্রত্যর্পণ চুক্তিতে অনুমোদন দেন। ভারত-মার্কিন বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
ভারত-মার্কিন জোটের বার্তা
মোদী-ট্রাম্প বৈঠকে কেবল তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ নয়, বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ট্রাম্প বলেন, “বিশ্বের কট্টর ইসলামি সন্ত্রাস ঠেকাতে ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একসঙ্গে লড়াই করবে।” এই মন্তব্য স্পষ্টতই ইঙ্গিত দেয় যে, ভবিষ্যতে ভারত-মার্কিন নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার হতে চলেছে।
তাহাউর রানার প্রত্যর্পণ ভারতের সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২৬/১১ হামলায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।