জাতীয় গেমসে জোড়া পদক জিতে বাংলার মুখ উজ্জ্বল করলো চা দোকানির মেয়ে মৌমিতা

জাতীয় গেমসে একেবারে চমক সৃষ্টি করেছেন হুগলির জিরাটের মেয়ে মৌমিতা মণ্ডল। তিনি একদিনে দুটি পদক জিতে বাংলার সম্মান বাড়িয়ে দিয়েছেন। প্রথমে রুপো এবং পরে সোনা, এই জোড়া পদকই মৌমিতার ক্রীড়াজীবনের অন্যতম বড় সাফল্য।
মৌমিতা মণ্ডল ১০০ মিটার হার্ডলসে রুপো পদক জিতেছেন। তিনি এই ইভেন্টে ১৩.৩৬ সেকেন্ডে ফিনিশ লাইন পার করেন। অন্যদিকে, লং জাম্পে ৬.২১ মিটার লাফিয়ে সোনা জিতে তিনি উচ্ছ্বসিত। একদিনে দুটি পদক জয়ের পর মৌমিতা বলেছেন, “দুটি ইভেন্টের সময় কাছাকাছি হওয়ায় একটু চাপ ছিল। ১০০ মিটার হার্ডলসে রুপো জেতায় কিছুটা হতাশ হয়েছিলাম। কিন্তু লং জাম্পে সোনা জেতার পর সেই হতাশা কেটে গেছে। এটি এখন পর্যন্ত আমার জীবনের সেরা প্রাপ্তি।”
মহিলাদের ১০০ মিটার হার্ডলসে সোনা জিতেছেন জ্যোতি ইয়াররাজি, যিনি সময় নিয়েছিলেন ১৩.১০ সেকেন্ড। মৌমিতা তার পরেই ১৩.৩৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে রুপো জিতেছেন।
মৌমিতার এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে এক সংগ্রামী জীবন। তার বাবা, যিনি জিরাট স্টেশনে একটি ছোট চায়ের দোকান চালান, এবং মা গৃহবধূ। তাঁর জন্য এই সাফল্য অর্জন করা সহজ ছিল না। তবে সৎ পরিশ্রম এবং সংকল্পের মাধ্যমে তিনি আজ জাতীয় পর্যায়ে নাম উজ্জ্বল করেছেন।
প্রসঙ্গত, গত বছর ভুবনেশ্বরে ফেডারেশন কাপ অ্যাথলেটিক্স মিটে ১০০ মিটার হার্ডলস এবং লং জাম্পে তিনি দুটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছিলেন। ওই সময়ে তিনি নীরজ চোপড়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং তিনি নীরজের কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ পেয়েছিলেন। “নীরজ চোপড়া আমাকে বলেছিলেন, সাফল্যের কোনও শর্টকাট হয় না। মাঠের বাইরেও শৃঙ্খলাপরায়ণ হতে হবে। লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে,” বলেন মৌমিতা। নীরজের সেই পরামর্শেই সাফল্য এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এখন তার চোখে আগামী লক্ষ্য – এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে পদক জয়। মৌমিতা বলেন, “আগামী বছর এশিয়ান গেমসে ভারতের হয়ে পদক জিততে চাই। তার আগে ফেডারেশন কাপে সোনা জেতার লক্ষ্যও রয়েছে।”
এছাড়া, রাজ্য সরকার জাতীয় গেমসে পদক জয়ী ক্রীড়াবিদদের জন্য চাকরি ও আর্থিক পুরস্কারের ঘোষণা করেছে। মৌমিতা জানালেন, তিনি বর্তমানে পূর্ব রেলে চাকরি করছেন এবং এই সুযোগটিকে তিনি খুবই মূল্যবান মনে করছেন।
এখন পর্যন্ত জাতীয় গেমসে বাংলার ৯টি সোনা, ৮টি রুপো, এবং ১১টি ব্রোঞ্জ পদকসহ মোট ২৮টি পদক অর্জিত হয়েছে। বাংলা এই তালিকায় ১২ নম্বরে রয়েছে। মৌমিতার মতো ক্রীড়াবিদদের সাফল্য রাজ্য ক্রীড়া ক্ষেত্রকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে।