বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার ষড়যন্ত্র, চাঞ্চল্যকর দাবি রিপোর্টে

বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আমেরিকার হাত থাকা নিয়ে অনেকদিন ধরে নানা চর্চা ও তর্ক চলছে। এক সময় শেখ হাসিনারও বিস্ফোরক দাবি ছিল যে, আমেরিকা সরকারের পতনের জন্য নেপথ্যে কাজ করেছে। যদিও পরবর্তীতে হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেন, বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা দায়ী নয়। তবে এবার প্রকাশ্যে এল এমন একটি রিপোর্ট, যা প্রশ্ন তুলে দিল হাসিনা সরকারের পতন ও আমেরিকার যোগসাজশ সম্পর্কে।
ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (IRI) একটি রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, যা মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে জমা করা হয়েছিল। এই রিপোর্টে ২০১৯ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর সময়কালের মধ্যে কীভাবে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করতে সাহায্য করা হয়েছিল, তার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। এনডিটিভি প্রফিটের রিপোর্ট অনুসারে, রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট দাবি করেছে যে, বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্য ১৭০ জন গণতন্ত্রপন্থীকে নিয়োগ করা হয়েছিল, যারা ‘ইনফর্ম্যান্ট’ হিসেবে কাজ করেছিল।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, আমেরিকান ইনস্টিটিউট বাংলাদেশি গায়ক তৌফিক আহমেদের গান ‘এ দায় কার?’ রিলিজ করতে সাহায্য করেছিল, যা বাংলাদেশের সামাজিক অব্যবস্থা এবং সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। গানটি জনগণকে সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের জন্য প্ররোচিত করতে তৈরি করা হয়েছিল। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, “যদি সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানে, তারা আরও বেশি করে সরকারি অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হবে।”
এছাড়া, রিপোর্টে ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যুক্ত কিছু রাজনৈতিক মহলের সমালোচনাও রয়েছে। যদিও এই ইনস্টিটিউটের নামের সঙ্গে ‘রিপাবলিকান’ থাকলেও, এটি ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ইনস্টিটিউটকে অর্থ সাহায্য করে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট এবং ইউএস এইড।
বিষয়টি আরও জটিল হয়ে উঠছে, কারণ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, যেমন খুলনা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম এবং ঢাকার গ্রামীণ এলাকায় গণতন্ত্রপন্থী নেতা ও কর্মীদের কাজ করতে উৎসাহিত করেছিল এবং তাদের নিয়ে বিভিন্ন ‘ওয়ার্কশপ’ও চালানো হয়েছিল। পাশাপাশি, গায়ক তৌফিককে দুটি গান তৈরির জন্য অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে শিল্পী মহলের যোগাযোগ তৈরি করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
এই রিপোর্টের ফলে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। সরকারের সমালোচকদের মতে, এতে স্পষ্ট হয়েছে যে, আমেরিকার একটি অংশ বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নেপথ্যে কাজ করছে, যদিও রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগকে অস্বীকার করেছে।
এদিকে, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সরকার বিরোধী আন্দোলনের মধ্যে আমেরিকার এমন ভূমিকা নতুনভাবে আলোচনায় এসেছে।