OMG! ভর সন্ধেয় শ্যুটআউট বাংলায় , জেসিবি চালককে গুলি করে করা হল খুন

হুগলির ডানকুনিতে ভয়াবহ শ্যুটআউটের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা নাগাদ দুষ্কৃতীদের গুলিতে মৃত্যু হল এক যুবকের। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বাইকে চড়ে বাড়ি ফেরার পথে দুষ্কৃতীদের নিশানায় পড়েন বান্টি সাউ নামে এক যুবক। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
বুকে গুলি লেগে লুটিয়ে পড়েন বান্টি
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বান্টি সাউ পেশায় একজন জেসিবি চালক। তাঁর বাড়ি ডানকুনি বন্দের বিল এলাকায়। প্রতিদিনের মতো কাজ শেষ করে বাইকে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তখনই গ্র্যান্ড সিটির কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বান্টির বুকের বাঁদিকে গুলি লেগেছিল। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
গোটা ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার পর থেকেই ওই জায়গাটি ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট।
পরিবারের দাবি, কোনও শত্রুতা ছিল না
এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে বান্টির পরিবারে। তাঁর বাবা রাজকুমার সাউ জানিয়েছেন, বান্টির সঙ্গে কারও শত্রুতা ছিল বলে তাঁদের জানা নেই। তবে কেন তাঁকে খুন করা হলো, তা বুঝতে পারছেন না তিনি। দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলেছেন তিনি।
পুলিশি তদন্তে কী জানা যাচ্ছে?
চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফ থেকে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, এলাকায় লাগানো সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
তদন্তকারীরা বান্টির পেশাগত জীবনের দিকেও নজর দিচ্ছেন। কোনও কাজের সূত্রে তিনি কোনও সমস্যায় জড়িয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনে কোনও ব্যক্তিগত শত্রুতা নাকি অন্য কোনও অপরাধমূলক চক্র কাজ করছে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
থমথমে ডানকুনি, আতঙ্কে স্থানীয়রা
একজন যুবকের প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডানকুনিতে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও দেখা দিয়েছে। তাঁরা দুষ্কৃতীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে, দ্রুত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কী রহস্য লুকিয়ে রয়েছে, তা জানার জন্য আপাতত অপেক্ষায় রয়েছে গোটা এলাকা।