আলু-সয়াবিনের তরকারিতে মরা ইঁদুর, হোস্টেলের খাবার খেতেই অসুস্থ ছাত্ররা! ভর্তি হতে হলো হাসপাতালে

ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির হস্টেলে খাবারে মরা ইঁদুরের উপস্থিতি নিয়ে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি রাতে হস্টেলের ছাত্ররা রাতের খাবারের মধ্যে মরা ইঁদুরের বাচ্চা দেখতে পায়, যা খাওয়ার পর বেশ কয়েকজন ছাত্র অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে অনেকেরই পেট খারাপ ও বমি শুরু হয়, এবং কিছু ছাত্রকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিক্ষোভ এবং ছাত্রদের অভিযোগ:

হস্টেলের খাবারের গুণগত মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ছিল, কিন্তু এই ঘটনাটি তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ছাত্রদের অভিযোগ, প্রতি মাসে খাবারের জন্য ২৬০০ টাকা নেওয়া হয়, কিন্তু তার বিনিময়ে তারা পাচ্ছেন শুধুই নীচু মানের খাবার। এর আগেও খাবারে পোকামাকড় পাওয়া গিয়েছিল, তবে এবার মরা ইঁদুরের বাচ্চা পাওয়ার পর পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায়।

ছাত্ররা জানান, গত রাতে তাদের দেয়া আলু এবং সয়াবিনের তরকারিতেই মরা ইঁদুরের বাচ্চা পাওয়া যায়। এই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে পড়ার পর, ছাত্ররা বিক্ষোভে শামিল হন এবং মেসে তালা দিয়ে দেন। তারা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।

পুলিশের হস্তক্ষেপ:

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে পুলিশ উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, তবে বিক্ষোভ এখনও চলমান রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, তাদের কাছ থেকে খাবারের জন্য টাকা নেওয়া হয়, অথচ তারা নিম্নমানের খাবার পাচ্ছেন। এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনকে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

পূর্বের অভিযোগও রয়েছে:

এটি প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও খাবারে নিম্নমানের খাবার এবং পোকামাকড় পাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তবে এবার ইঁদুরের বাচ্চা খাওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হয়েছে। ছাত্রদের অভিযোগ, কলেজের গার্ডরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে, যা আন্দোলন আরও তীব্র করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান:

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির প্রশাসন এই ঘটনায় কোন মন্তব্য করেনি, তবে ছাত্রদের দাবি রয়েছে, শিগগিরই অভিযোগকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক এবং ছাত্রদের নিরাপত্তা ও খাবারের গুণগত মান নিশ্চিত করা হোক।

এখন দেখা যাচ্ছে, সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রশাসন এই গম্ভীর ঘটনা নিয়ে কী পদক্ষেপ নেয় এবং ছাত্রদের দাবির প্রতি কতটা গুরুত্ব দেয়।