“পাশের বাড়ির দিকে হেলে পড়েছে বহুতল”-হেলে যাওয়া বাড়ির তালিকা বেড়েই চলেছে

কলকাতার বাঘাযতীন, ট্যাংরা, তপসিয়া, মুকুন্দপুর, এন্টালি, বাগুইআটি—এমন একাধিক এলাকা ছাড়িয়ে এখন শহরতলিতেও বাড়ছে হেলে পড়া বহুতল আবাসনের সংখ্যা। এবার দক্ষিণ দমদম পুরসভার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডে ২৬ নম্বর রেলগেটের পাশে লেকটাউন দক্ষিণদাঁড়িতে নতুন একটি হেলে পড়া আবাসনের খোঁজ মিলেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, কারণ দুই পাশের বহুতল একে অপরের উপর হেলে রয়েছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
হেলে পড়া বাড়ির আশঙ্কা
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই পাশে থাকা দু’টি বহুতল আবাসনের মধ্যে একটি সাপেক্ষে হেলে পড়েছে এবং অন্যটি একেবারে তার ঘাড়ের উপর উঠে গিয়েছে। এই অবস্থার মধ্যে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, এমন আশঙ্কা স্থানীয়দের। আবাসনের বাসিন্দা রাজেশ প্রসাদ জানান, ‘‘আগে তো ঠিকই ছিল, আমরা ভালো দেখে নিয়েছিলাম। পরে দেখি এই অবস্থা।’’ একই আবাসনের নতুন বাসিন্দা দীপালি পাল বলেন, ‘‘পাশের বহুতলটির অবস্থা কেমন, সেটা জানি না। তবে হেলানো দেখে চিন্তা হচ্ছে।’’
হেলে পড়ার ঘটনা শহরজুড়ে
হেলে পড়া বহুতল আবাসনের ঘটনা কলকাতা শহর ছাড়িয়ে শহরতলিতেও ছড়িয়ে পড়েছে। বাঘাযতীন থেকে শুরু হয়ে একের পর এক এলাকা, যেমন ট্যাংরা, তপসিয়া, মুকুন্দপুর, এন্টালি, বাগুইআটি, দক্ষিণদাঁড়ি—এছাড়া তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এটি একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, বেআইনি নির্মাণ এবং মাটি পরীক্ষা না করেই বহুতল তৈরি হওয়ায় এই ধরনের সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বিরোধীদের অভিযোগ
বিরোধীরা আবার অভিযোগ তুলছেন, যে এলাকায় এসব বহুতল তৈরি হচ্ছে, সেখানে জলাশয় বুজিয়ে অবৈধভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে। তাদের মতে, বেআইনি নির্মাণের কারণে বাড়ছে ঝুঁকি। যদিও দক্ষিণদাঁড়ির এই ঘটনার ক্ষেত্রে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এখানে জলাশয় ছিল না। বরং, এখানে একটি পুরোনো বাড়ি ছিল, সেটি ভেঙে নতুন বহুতল তৈরি করা হয়েছে। তাদের দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং এখন এমন অবস্থা হওয়া উদ্বেগের বিষয়।
পুরসভা এবং রাজ্য সরকারের উদ্যোগ
রাজ্যের পুরসভাগুলিতে বর্তমানে বাড়ির প্ল্যান অনুমোদনের ক্ষেত্রে মাটি পরীক্ষা এবং স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারের ছাড়পত্র নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরও এ ব্যাপারে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানো যায়।
নির্মাণ বিধি নিয়ে উদ্বেগ
তবে প্রশ্ন উঠছে, বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ যথেষ্ট কি না। শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণ ঠেকানোর জন্য রাজ্য সরকারের যে উদ্যোগ, তা কি আদৌ কার্যকর? নাকি আরও শক্তিশালী পদক্ষেপের প্রয়োজন? সেসব নিয়ে এখনো শহরবাসীর মধ্যে ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
দক্ষিণ দমদমের এই ঘটনা, কলকাতার অন্যান্য এলাকাতেও যে পরিস্থিতি ক্রমে খারাপ হচ্ছে, তা নতুন করে শহরের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠিয়েছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা থেকে সাবধান থাকতে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কলকারখানার পাশাপাশি, বাড়ির নির্মাণ ক্ষেত্রেও কঠোর নিয়ম প্রয়োগের প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়ছে।