“কোনওমতে প্রাণ বাঁচলেন অভিনেতা”- ক্ষমা চেয়েও মেদিনীপুরে চড়ম হেনস্থার শিকার বিশ্বনাথ

পশ্চিম মেদিনীপুরের পটাশপুরে এক ক্লাবের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে রীতিমতো বিপদে পড়লেন অভিনেতা বিশ্বনাথ বসু। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করার পর থেকেই স্থানীয় জনতার রোষের মুখে পড়েন তিনি। এক পর্যায়ে মৃত্যুর মুখোমুখি হতে হয় তাকে। কোনোমতে প্রাণ বাঁচিয়ে ফিরতে হয় অভিনেতাকে।
নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান: বিতর্কের শুরু
২৫ জানুয়ারি রাতে নেতাজি তরুণ সঙ্ঘ ক্লাবের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পটাশপুরে পৌঁছান বিশ্বনাথ বসু। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে স্টেজে ওঠার আগে, তিনি জানতে পারেন যে আয়োজকরা তাকে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে মাল্যদান করার জন্য বলছেন। বিশ্বনাথ ভেবেছিলেন, তিনি জুতো খুলে মাল্যদান করবেন, তবে ঠান্ডার কারণে জুতো পরেই সেটি করেন। তার পর মুহূর্তেই পরিস্থিতি শান্ত ছিল, দর্শকেরাও ফুল ছড়িয়েছিলেন। কিন্তু এই ছোট্ট ভুলের পরপরই এক অদ্ভুত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
মদ্যপ অবস্থায় আয়োজকের অভিযোগ
বিশ্বনাথের মতে, অনুষ্ঠান শেষে গাড়ি থেকে নামতেই আয়োজক মলয় রায় এসে তাকে জানান যে ক্লাবের সেক্রেটারি তার সঙ্গে কিছু কথা বলতে চান। সেক্রেটরি, যিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন, এসে অভিনেতাকে প্রশ্ন করেন কেন তিনি জুতো পরে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করেছেন। বিশ্বনাথ তার ভুল স্বীকার করে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা চান এবং জানান যে তিনি পলাশী থেকে সোজা অনুষ্ঠানস্থলে এসেছিলেন, তাই কিছুটা ক্লান্ত ছিলেন। কিন্তু এরপরই পরিস্থিতি বদলে যায়।
আক্রান্ত অভিনেতা: পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়
বিশ্বনাথের ভাষায়, “এরপর হঠাৎ করে সবাই আমার ওপর চড়াও হয়, এবং আমাকে তুই তোকারি করে প্রশ্ন করা হয় কেন আমি এই কাজ করেছি।” অভিনেতা জানান, তিনি বারবার ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেন যে তিনি নেতাজিকে খুব শ্রদ্ধা করেন, এবং ভুলবশত এটি হয়ে গেছে। কিন্তু পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে থাকে, এবং একপর্যায়ে এক ব্যক্তি তাকে খালি পায়ে নেতাজির মূর্তিতে মাল্যদান করে ক্ষমা চাইতে বলেন।
বিশ্বনাথ আরও জানান, “মেদিনীপুরে ২১ বছর ধরে শো করছি, এখানে হাজার হাজার শো করেছি, কিন্তু এই প্রথম এমন ঘটনার সম্মুখীন হলাম।” তাকে এই অবস্থায় দেখে সবাই আরো মারমুখী হয়ে ওঠে। অভিনেতা জানান, পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, তিনি মৃত্যুর ভাবনা পর্যন্ত করেন এবং বলেন, “মেরে ফেলুন আমাকে, যা করার করে নিন।”
পুলিশের সাহায্যে প্রাণ বাঁচান অভিনেতা
অভিনেতার এই অবস্থায়, একজন পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে বের করে নিয়ে যায়। কিন্তু, তার গাড়ি ধাওয়া করে স্থানীয় জনতা। আতঙ্কিত হয়ে অভিনেতা পুলিশকে ফোন করেন এবং এসপি ধৃতিমান সরকারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই ঘটনার যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানায় ক্ষমা চাওয়া
অভিনেতার অভিযোগের পর ক্লাবের পক্ষ থেকে থানায় গিয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া হয়েছে। বিশ্বনাথ বসু জানান, “এই ঘটনার পর ক্লাবের তরফ থেকে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে, কিন্তু যা ঘটেছে তা আমাকে কোনোদিন ভুলে যাওয়ার সুযোগ দিবে না।”
উত্তেজনা এবং আতঙ্কের মাঝে বিশ্বনাথের অভিজ্ঞতা
বিশ্বনাথের এই অভিজ্ঞতা শুধু তাকে নয়, রাজ্যজুড়ে এক আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে। অনেকেই এই ঘটনায় স্থানীয় জনতার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে, অভিনেতা এখন নিরাপদে আছেন এবং পুলিশের সাহায্য গ্রহণ করার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।