বিশেষ: মৌনী অমাবস্যা কবে? জেনেনিন স্নানের সবচেয়ে শুভ সময় কখন? জেনেনেনিন সকল নিয়ম

হিন্দু ক্যালেন্ডার অনুসারে, মাঘ মাসের অমাবস্যা ‘মৌনী অমাবস্যা’ নামে পরিচিত। এই দিনে মৌন ব্রত পালন এবং স্নানের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ‘মৌনী’ শব্দের অর্থ নীরবতা। বিশ্বাস করা হয় যে এই দিনে নীরবতা ও আত্মনিয়ন্ত্রণ বজায় রাখলে মানসিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি পায়। পবিত্র নদীতে স্নান ও দান করলে পাপ মোচন হয় এবং মোক্ষ লাভ হয়। এই দিনে গঙ্গা স্নানের বিশেষ মাহাত্ম্য রয়েছে এবং বহু ভক্ত প্রয়াগরাজের সঙ্গমে স্নান করেন। এই দিনটি সূর্য দেবতা এবং পূর্বপুরুষদের পুজোর জন্যও অত্যন্ত শুভ বলে বিবেচিত হয়। এই বছর, ২০২৫ সালে, মৌনী অমাবস্যা ২৯শে জানুয়ারি পালিত হবে।
মৌনী অমাবস্যার তিথি:
হিন্দু পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথি ২৮শে জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭:৩২ মিনিটে শুরু হবে এবং ২৯শে জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬:০৫ মিনিটে শেষ হবে।
স্নান ও দানের শুভ সময়:
(এই অংশে কোনো নির্দিষ্ট শুভ সময়ের উল্লেখ নেই, তবে সাধারণত সূর্যোদয়ের সময় স্নান করা এবং দিনের বেলায় দান করা উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।)
মৌনী অমাবস্যার গুরুত্ব:
মৌনী অমাবস্যার দিনে গঙ্গা নদীতে স্নান করা অত্যন্ত পবিত্র বলে মনে করা হয়, কারণ কথিত আছে এই দিনে গঙ্গার জল অমৃতের মতো হয়ে যায়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঋষি মনু মাঘ মাসের অমাবস্যা তিথিতে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, সেই কারণে এই তিথি ‘মৌনী অমাবস্যা’ নামে পরিচিতি লাভ করে। মনে করা হয়, যে ব্যক্তি এই দিনে নীরবতা পালন করে, সে বাকশক্তিতে সাফল্য লাভ করে।
মৌনী অমাবস্যার পূজা পদ্ধতি:
মৌনী অমাবস্যার দিনে ব্রহ্ম মুহূর্তে (সূর্যোদয়ের আগে) ঘুম থেকে ওঠা শুভ বলে মনে করা হয়।
প্রাত্যহিক কাজকর্ম সেরে গঙ্গা নদীতে স্নান করুন। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে স্নানের জলে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করুন।
স্নানের পর ভগবান বিষ্ণুর ধ্যান করুন এবং ব্রত পালনের সংকল্প গ্রহণ করুন।
জগতের পালনকর্তা বিষ্ণুর আরাধনা করে ১০৮ বার তুলসী প্রদক্ষিণ করুন।
নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী গরীবদের অন্ন, অর্থ বা বস্ত্র দান করুন।
মৌনী অমাবস্যায় পালনীয় কিছু প্রতিকার:
১. যারা পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ পেতে চান, তাদের হলুদ বস্ত্র পরিধান করা উচিত এবং এই দিনে পূর্বপুরুষদের ধ্যান করা উচিত।
২. বাড়ির প্রধান প্রবেশপথে জলের সাথে হলুদ মিশিয়ে ছিটিয়ে দিন এবং দরজাও পরিষ্কার করুন। এটি ঘরে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. এই তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর পূজা এবং অশ্বত্থ গাছের পূজা করার প্রথা প্রচলিত।
পিতৃ দোষ থেকে মুক্তির উপায়:
মৌনী অমাবস্যায় সূর্যোদয়ের আগে পবিত্র নদীতে স্নান করা বিশেষ ফলপ্রসূ। সম্ভব না হলে, ঘরে গঙ্গাজল মিশিয়ে স্নান করুন।
পূর্বপুরুষদের আত্মার শান্তির জন্য এই দিনে তর্পণ ও পিণ্ডদান করা উচিত। পবিত্র নদীতে কালো তিল রেখে পিতৃপুরুষদের জল নিবেদন করুন।
ব্রাহ্মণ, গরীব ও অভাবীকে অন্ন, বস্ত্র, ময়দা, গুড়, ফল, কম্বল ইত্যাদি দান করুন।
অশ্বত্থ গাছে জল নিবেদন করুন এবং খাঁটি গরুর ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালান।
কাঁচা দুধে যব, তিল এবং চাল মিশিয়ে নদীতে প্রবাহিত করুন।
বাড়িতে যজ্ঞ করুন অথবা গোবরের ঘুঁটে জ্বালিয়ে ঘি ও গুড়ের ধূপ নিবেদন করুন এবং ‘পিতৃ দেবতাভ্যো অর্পণমস্তু’ মন্ত্র জপ করুন।
গরুকে সবুজ ঘাস, গুড় ও রুটি খাওয়ান।
এই নিয়মগুলি নিষ্ঠার সাথে পালন করলে পিতৃপুরুষের আশীর্বাদ লাভ করা যায় এবং জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি আসে বলে বিশ্বাস করা হয়।