সঞ্জয় রায়ের ফাঁসি? আজ কলকাতা হাইকোর্টে হবে R.G Kar মামলার শুনানি

আজ, সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের জুনিয়র মহিলা ডাক্তার খুনে অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের মৃত্যুদণ্ডের দাবিতে রাজ্য সরকারের করা মামলার শুনানি। গত ২০ জানুয়ারি শিয়ালদা আদালত সঞ্জয় রায়কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয়। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে গেছে রাজ্য সরকার।
এই ঘটনার শুরু থেকেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন। শিয়ালদা আদালতের রায়ের পরেও তিনি সঞ্জয়ের ফাঁসির দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, “আমাদের পুলিশের হাতে থাকলে মৃত্যুদণ্ডের সাজা হত।”
প্রসঙ্গত, গত ১৮ জানুয়ারি শিয়ালদা আদালত সঞ্জয়কে এই মামলায় দোষী সাব্যস্ত করে। এর পর ২০ জানুয়ারি সাজা ঘোষণার পূর্বে সিবিআই-এর আইনজীবী সঞ্জয়ের অপরাধকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ আখ্যা দেন। যদিও, বিচারক সাজা ঘোষণার সময় তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান যে এই ঘটনা ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ পর্যায়ে পড়ে না। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরা প্রশ্ন তোলেন, “আমার মেয়ে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে, এটা যদি বিরলতম না হয়, তাহলে বিরলতম ঘটনা কাকে বলে? সিবিআই-এর দুর্বল তদন্তের কারণেই আজ এই পরিস্থিতি।”
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও আদালতের এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে সহমত পোষণ করেননি। তিনি বলেন, “আমি বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করতে পারি না, কিন্তু বিচারের সমালোচনা করতে পারি। আজ বলা হয়েছে এটি বিরলের মধ্যে বিরলতম নয়, এর সঙ্গে আমি একমত নই।”
এই ঘটনার পরেই রাজ্য সরকার কলকাতা হাইকোর্টে নিম্ন আদালতের রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এবং সঞ্জয়ের মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানায়।
তবে, রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপের সমালোচনাও করেছেন নির্যাতিতার বাবা। তিনি বলেন, “ওনাকে (মুখ্যমন্ত্রী) এত তাড়াহুড়ো করে মামলা করতে হবে না। ওঁর পুলিশই তো তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করতে চেয়েছিল।”
অন্যদিকে, সিবিআই-ও সঞ্জয় রায়ের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে হাইকোর্টে আবেদন করেছে। আজ তাদের আইনজীবীর বক্তব্যও শোনা হবে। অর্থাৎ, আজ হাইকোর্টে সঞ্জয়ের মৃত্যুদণ্ডের পক্ষে রাজ্য সরকার ও সিবিআই উভয়ের বক্তব্যই পেশ করা হবে। এখন আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই সকলের নজর।