দেখতে পেলেন না নবজাতকের মুখ, ২৬ দিন লড়াইয়ের পর মৃত্যু প্রসূতির! শোকের ছায়া গোটা পরিবারে

জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজে স্যালাইন ও ইঞ্জেকশন নেওয়ার পর কিডনি বিকল হয়ে ২৩ বছর বয়সী শান্তনা রায়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সন্তান জন্মের পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন শান্তনা। নবজাতকের মুখ দেখার আগেই তার এই পরিণতিতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জলপাইগুড়ি বোয়ালমারি নন্দন পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শান্তনাকে গত ২৯শে ডিসেম্বর প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজের অধীনে থাকা মাদার চাইল্ড হাবে ভর্তি করা হয়। সেই রাতেই সিজার করে তিনি একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেন।

পরিবারের অভিযোগ, সন্তান জন্মের পরের দিন থেকেই শান্তনার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ২রা জানুয়ারি তাকে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে পরীক্ষা করার পর জানা যায় প্রসূতির কিডনি বিকল হয়েছে। তাকে ভেন্টিলেশনে রাখা হয়। রোগীর আত্মীয়রা সেই সময়েই অভিযোগ করেছিলেন যে শান্তনার একই সাথে ভেন্টিলেশন ও ডায়ালিসিস—দুটি পরিষেবারই প্রয়োজন ছিল, যা উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে পর্যাপ্ত পরিমাণে উপলব্ধ ছিল না। ক্রমশ শান্তনার ক্রিয়েটিনিন লেভেল বাড়তে থাকে এবং অবশেষে শুক্রবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

মৃতার পরিবারের সদস্যদের দাবি, যদি উপযুক্ত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যেত, তাহলে হয়তো শান্তনাকে হারাতে হতো না। এই ঘটনায় পরিবারে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই ঘটনা জলপাইগুড়ি মেডিক্যাল কলেজ ও উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।