‘নিয়ম’ মেনেও PGT-রা কোপে কেন?-জুনিয়র ডাক্তারদের হয়ে অধ্যক্ষের চিঠি স্বাস্থ্যভবনে

মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া ঘটনার জেরে সাসপেন্ড হওয়া সাতজন পোস্ট-গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি (পিজিটি) চিকিৎসকের সমর্থনে স্বাস্থ্যভবনে চিঠি পাঠালেন মেদিনীপুর মেডিক্যালের অধ্যক্ষ মৌসুমি নন্দী। জুনিয়র ডাক্তারদের আবেদনের ভিত্তিতে তিনি এই চিঠি স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তাকে ফরোয়ার্ড করেছেন।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) গাইডলাইন মেনেই ওই পিজিটিরা সিজার ও অ্যানাস্থেশিয়ার কাজ করেছিলেন। এনএমসি-র গাইডলাইন অনুযায়ী, তাঁরা সিনিয়রদের তত্ত্বাবধানে স্বাধীনভাবে কাজ করার অধিকারী। এই যুক্তিতে জুনিয়র ডাক্তাররা কর্মবিরতি না করলেও সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে রবিবারও অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে গেছেন।
গত ৮ অগস্ট রাতে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজে সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে সাতজন জুনিয়র ডাক্তার এক প্রসূতির সিজার করেন। দুর্ভাগ্যবশত, ওই প্রসূতির মৃত্যু হয় এবং আরও চারজন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ঘটনার পর রিঙ্গার্স ল্যাকটেট (আরএল) স্যালাইনের গুণমান এবং সিনিয়রদের অনুপস্থিতিতে জুনিয়র ডাক্তারদের কাজ—উভয়ই প্রশ্নের মুখে পড়ে। স্বাস্থ্য দপ্তর হাসপাতালের উপাধ্যক্ষ, পাঁচজন অনুপস্থিত সিনিয়র ডাক্তার এবং সাতজন জুনিয়র ডাক্তারকে সাসপেন্ড করে।
সাসপেন্ড হওয়া সাত পিজিটির মধ্যে শ্বেতা সিং, পূজা সাহা, সুশান্ত মণ্ডল, মৌমিতা মণ্ডল ও ভাগ্যশ্রী কুণ্ডু প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিভাগের এবং জাগৃতি ঘোষ ও মণীশ কুমার অ্যানাস্থেশিয়া বিভাগের। তাঁরা প্রত্যেকেই উপাধ্যক্ষ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা, এনএমসি এবং সিআইডি-কে চিঠি লিখে তাঁদের সাসপেনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের মূল যুক্তি হল, এনএমসি-র নির্দেশিকা মেনেই তাঁরা কাজ করেছেন।
চিকিৎসক মহলের একটা বড় অংশও সাসপেন্ডেড পিজিটি-দের সমর্থন করছেন। আরজি কর আন্দোলনের অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো বলেন, “সিনিয়র থাকবেন কি না, সেই দায়িত্ব তো জুনিয়র ডাক্তার নিতে পারেন না। ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও কোনো গাফিলতির প্রমাণ মেলেনি। এনএমসি-ই তাঁদের এই কাজ করার অনুমতি দেয়, তাহলে তাঁদের সাসপেন্ড করা হল কেন?”
ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক রাজীব পান্ডে এই সাসপেনশনে বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “এই সরকারই তো এমবিবিএস পাশ করা চিকিৎসককে জেনারেল ডিউটি মেডিক্যাল অফিসার পদে যোগ দেওয়ানোর সময় ৬ মাসের প্রসবের প্রশিক্ষণ দেয়। তাহলে দু’-তিন বছর বিশেষজ্ঞ প্রশিক্ষণ পাওয়া একজন পিজিটি সেই অপারেশন করতে পারবেন না?”
মেডিক্যাল সার্ভিস সেন্টারের যুগ্ম সম্পাদক কবিউল হক এনএমসি গাইডলাইনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “গাইডলাইনের পঞ্চম চ্যাপ্টারের পঞ্চম পয়েন্টে স্পষ্ট লেখা আছে, একজন পিজিটি-কে তাঁর ‘ইন্ডিপেন্ডেন্ট কেস’ এর হিসাব ই-লগ বুকে রাখতে হবে। তাহলে সিজার করাকে কেন কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে?” ওই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব চন্দ্র বলেন, এনএমসি গাইডলাইন অনুযায়ী, একজন পিজিটি অপারেশনে সহায়তা এবং স্বাধীনভাবে অপারেশন করতে পারেন, তবে সিনিয়রের তত্ত্বাবধানে। এই ঘটনায় জুনিয়র ডাক্তারদের সাসপেন্ড করা যায় না। এর দায়ভার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, সিনিয়র ডাক্তার বা ইউনিট হেডের।
মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের জুনিয়র ডাক্তাররা শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করেও একই দাবি জানান। তাঁদের সহকর্মীদের সাসপেনশন প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তাঁদের অবস্থান চলবে বলে তাঁরা জানিয়েছেন। রবিবার সন্ধ্যায় অধ্যক্ষ মৌসুমি নন্দী জানান, জুনিয়র ডাক্তাররা অবস্থানে আছেন এবং তাঁরা অবস্থান তুলে নেবেন। তিনি আরও জানান, তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তাকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে।