ফ্রড কল ও ফেক মেসেজের ফাঁদে পড়েছেন? অভিযোগ জানান এই অ্যাপের মাধ্যমে

প্রতারণার উদ্দেশ্যে করা কল ও মেসেজ সম্পর্কে অভিযোগ জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তর শুক্রবার ‘সঞ্চার সাথী’ মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে। কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, মোবাইল ফোনের কল লগ থেকেই সরাসরি এই অ্যাপের মাধ্যমে অভিযোগ জানানো যাবে।

এই দিন মন্ত্রী টেলিকম দপ্তরের আরও দুটি উদ্যোগ— ‘ভিশন ফর ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মিশন ২.০’ এবং ‘ডিজিটাল ভারত নিধি’ তহবিলে তৈরি ফোর-জি সাইটগুলিতে ইন্ট্রা সার্কেল রোমিংও চালু করেছেন। মোবাইলে আসা প্রতারণামূলক কলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০২৩ সালে টেলিকম দপ্তর ‘সঞ্চার সাথী পোর্টাল’ চালু করেছিল। এখন সেই পোর্টালের সুবিধা একটি অ্যাপের মাধ্যমে পাওয়া যাবে।

‘সঞ্চার সাথী মোবাইল অ্যাপ’-এর বৈশিষ্ট্য:

এই অ্যাপটি অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
ব্যবহারকারীরা এই অ্যাপ ডাউনলোড করে ফোনের কল লগ থেকেই সরাসরি সন্দেহজনক কল ও এসএমএসের ব্যাপারে অভিযোগ জানাতে পারবেন।
অন্যান্য বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে—
সিম কার্ড ব্লক করার সুবিধা
চুরি যাওয়া বা হারিয়ে যাওয়া ফোন ট্র্যাক করা ও খুঁজে পাওয়ার ব্যবস্থা
মোবাইল হ্যান্ডসেট যাচাই করার ব্যবস্থা, যাতে ব্যবহারকারীরা আসল ডিভাইস কিনতে পারেন।
এক সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতে ৯০ কোটির বেশি স্মার্টফোন ব্যবহারকারী রয়েছেন। ‘সঞ্চার সাথী’ মোবাইল অ্যাপের উদ্দেশ্য হল, প্রত্যেকে যাতে তাদের স্মার্টফোনে কয়েকটি মাত্র স্পর্শে এই সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাগুলি পেতে পারেন।’

ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মিশন ২.০:

ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মিশন ২.০-র লক্ষ্য হল, দেশের সকলের জন্য হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড সংযোগ নিশ্চিত করা। এই প্রকল্পের অধীনে ২০৩০ সালের মধ্যে ২.২০ লক্ষ গ্রামে অপটিক্যাল ফাইবার কেবল সংযোগ স্থাপন করা হবে।

মন্ত্রী সিন্ধিয়া বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হল, গ্রামে প্রতি ১০০ পরিবার পিছু কমপক্ষে ৬০টি পরিবারের কাছে ব্রডব্যান্ড সংযোগ পৌঁছে দেওয়া। আমরা ন্যূনতম ১০০ এমবিপিএস ডাউনলোড স্পিড দিতে চাই এবং এর জন্য ভারতের গ্রামগুলিতে শক্তিশালী ডিজিটাল পরিকাঠামো তৈরি করা হবে।’

সংক্ষেপে, ‘সঞ্চার সাথী’ মোবাইল অ্যাপটি প্রতারণামূলক কল ও মেসেজের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই এই ধরণের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে পারবে এবং নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে পারবে। এছাড়াও, ন্যাশনাল ব্রডব্যান্ড মিশন ২.০ দেশের ডিজিটাল পরিকাঠামো উন্নয়নে একটি বড় ভূমিকা নেবে।