“আজ স্কুল হবে না”- সকালের বিদ্যালয়ে অকাল-ছুটি, বেজার স্কুলের সকল পড়ুয়ারা

শনিবার সকালে ইসলামপুরের একটি নার্সারির পড়ুয়া ফারিন রোজ় স্কুলে এসে জানতে পারে, আজ স্কুল ছুটি। কেন ছুটি, সে বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি। একই প্রশ্ন ছিল তার স্কুলের বাকি পড়ুয়াদের মনেও। শনিবার অন্যান্য দিনের তুলনায় ক্লাস কম থাকে, খেলার সময় বেশি। তাই এই দিন স্কুলে আসার উৎসাহও বেশি থাকে পড়ুয়াদের। কিন্তু স্কুলের সামনে গাড়ি থেকে নামতেই তাদের জানানো হয়, ‘আজ স্কুল হবে না।’

রোজ় জানায়, স্কুলের সামনে ভ্যান থেকে নামার পরেই পরিবেশটা অন্যরকম লাগছিল। স্কুলের পাশে বাবুল আঙ্কেলের দোকান খোলা থাকলেও অন্যান্য দিনের মতো ভিড় ছিল না। স্কুল থেকে কিছুটা দূরে লোকজন জটলা করে দাঁড়িয়ে কিছু বলাবলি করছিল এবং তাদের স্কুলের দিকেই আঙুল তুলছিল।

অন্য পড়ুয়ারা জানায়, স্কুলের পাশেই শেরওয়ানি নদী। নদীর পাড়ে অনেক পুলিশ দাঁড়িয়ে ছিল। হলুদ ফিতে দিয়ে নদীর ব্রিজের কাছে এবং নদীর পাশে বেশ কয়েকটি জায়গা ঘেরা ছিল। ব্রিজে কাউকে দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছিল না। প্রথমে তারা কিছু না বুঝেই স্কুলে ঢোকে। পরে শিক্ষকেরা তাদের নদীর দিকে পিছন ফিরে বসতে এবং নিজেদের মধ্যে গল্প করতে বলেন। এতে পড়ুয়ারা আরও অবাক হয়ে যায়। তাদের একজন বলে, ‘অন্যদিন স্কুলের মাঠ থেকে পাশের চাষের জমি ও নদীর দিকে তাকাতে কেউ নিষেধ করে না। আজ সবই যেন উল্টো। কিছুক্ষণ পর ভ্যান ফিরে আসে এবং আমরা বাড়ি যাই। ফেরার সময় ভ্যানকাকুর মুখে একটা নতুন শব্দ শুনি— এনকাউন্টার। বাড়িতে গিয়ে বাবাকে এর মানে জিজ্ঞেস করব।’

আবেদ কাদরি নামের আরেক ছাত্র জানায়, সে শনিবার স্কুলে খেলবে বলে ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে এসেছিল, কিন্তু স্কুল ছুটি হয়ে যাওয়ায় সে হতাশ হয়। এর আগে ছুটি থাকলে ডায়েরিতে লিখে দেওয়া হতো, কিন্তু এদিন কিছুই জানানো হয়নি। সে আরও বলে, ‘স্কুলের চারপাশে, চাষের জমিতে এত পুলিশ আগে কখনও দেখিনি।’

ইসলামপুরের গোয়ালপোখর থানা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে কিচকটোলা এলাকায় শেরওয়ানি নদীর পাশেই শামা পাবলিক স্কুল। সেখানে নার্সারি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ানো হয়। প্রায় সাড়ে তিনশো ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শনিবার ভোররাতে ওই স্কুলের পাশের চাষের জমিতে পুলিশের গুলিতে সাজ্জাক আলম নামে এক বিচারাধীন বন্দীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকেই গোটা এলাকা পুলিশ ঘিরে রেখেছিল। এই ঘটনার জেরেই স্কুল ছুটি ঘোষণা করা হয়।

স্কুলের শিক্ষক মহম্মদ হায়দার জানান, তারা চাননি এই ঘটনার কোনও নেতিবাচক প্রভাব শিশুদের মনে পড়ুক। সেই কারণেই তড়িঘড়ি স্কুল ছুটি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রবিবারের মধ্যেই পুলিশের পাহারা ও ব্যারিকেড উঠে যাবে এবং সোমবার বাচ্চারা তাদের চেনা পরিবেশে ফিরে আসবে।