“পুলিশ ৫ দিনে যা পারল CBI ৫ মাসে পারল না”-মন্তব্য RG Kar-এর নির্যাতিতার পরিবারের

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুন মামলার সাজা ঘোষণার দিন ধার্য করেছে শিয়ালদা আদালত। আগামী ১৮ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটের সময় অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণা করা হবে। এই মামলার শুনানির শেষে নির্যাতিতার বাবা-মা সিবিআইয়ের তদন্তের গতি এবং পদ্ধতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা জানান, “কলকাতা পুলিশ ৫ দিনে যা করতে পেরেছিল, সিবিআই ৫ মাসেও তা করতে পারেনি।” তাদের আরও জোরালো অভিযোগ, “একজন ব্যক্তির পক্ষে জনবহুল হাসপাতালের মধ্যে এমন ঘটনা ঘটানো সম্ভব নয়।” তাদের মতে, এই ঘটনার সাথে হাসপাতালের কেউ জড়িত থাকতে পারে।
নির্যাতিতার বাবা ক্ষোভের সাথে বলেন, “আমরা এখন সিবিআই আধিকারিকদের সঙ্গে কোনো কথা বলছি না। আমাদের প্রশ্নগুলো আমরা আদালতের সামনে রেখেছি, যা প্রকাশ্যে বলা যাবে না। কলকাতা পুলিশের ৫ দিনের তদন্তের ফল আজ পাওয়া গেল। পরবর্তীতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট আসবে, তার ফলও পাওয়া যাবে। কলকাতা পুলিশ যা ৫ দিনে করেছিল, সিবিআই তা ৫ মাসেও করতে পারেনি। ২ জনকে তো ছেড়েই দিল। আমরা সিবিআই চাইনি। হাইকোর্ট যা ভালো মনে করবে তাই করবে।”
তিনি আরও বলেন, “যেদিন ঘটনাটি ঘটেছিল সেদিন যারা আমার মেয়ের সঙ্গে ছিল, তাদের উপর আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। আমার মনে হয় না বাইরের কেউ এসে হাসপাতালের কারও সাহায্য ছাড়া এমন ঘটনা ঘটাতে পারত। আমি মনে করি হাসপাতালের কেউ এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে। আমরা চাই তারা সবাই সামনে আসুক এবং প্রকৃত তথ্য প্রকাশ হোক। যখন সবাই শাস্তি পাবে, তখনই আমার মেয়ের আত্মা ও আমার মন শান্তি পাবে।”
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত ১১ নভেম্বর। ৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার শিয়ালদা ফার্স্ট অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জজ (ফার্স্ট এডিজে) অনিবার্ণ দাসের এজলাসে এই মামলার শুনানি শেষ হয়। উল্লেখ্য, গত ৯ অগাস্ট আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চারতলার সেমিনার হল থেকে ঐ মহিলা চিকিৎসকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তাকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছিল। ঘটনার পরদিনই কলকাতা পুলিশ অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করে।
এই ঘটনা রাজ্য তথা দেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। দেশ-বিদেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ এর প্রতিবাদে সরব হন। পরবর্তীতে, হাইকোর্টের নির্দেশে এই ঘটনার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। তবে, আর্থিক বেনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ ও তৎকালীন ওসি অভিজিৎ মণ্ডল জামিন পান, কারণ সিবিআই গ্রেফতারের ৯০ দিন পরেও তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দিতে পারেনি। যদিও সন্দীপ ঘোষ আর্থিক দুর্নীতির মামলায় এখনও জেলেই আছেন।
এই মামলার রায়ের দিকে এখন সকলের নজর। নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ এবং সিবিআইয়ের তদন্তের পদ্ধতি আদালতের পর্যবেক্ষণে কতটা প্রভাব ফেলে, তা দেখার বিষয়।