SSC-তে যোগ্য–অযোগ্য পৃথক না করলে পুরো প্যানেলই বাতিল, পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের

স্কুল সার্ভিস কমিশনের (এসএসসি) নিয়োগ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি কমিশন যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করতে না পারে, তাহলে পুরো প্যানেল বাতিল করতে বাধ্য হবে শীর্ষ আদালত। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না ও বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ এই কথা স্পষ্ট করে দিয়েছে।

২০১৬ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নিয়ে এসএসসি এবং রাজ্য সরকারকে এদিন সুপ্রিম কোর্টে একাধিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। আদালত মূলত যোগ্য ও অযোগ্য চাকরিপ্রাপকদের পৃথকীকরণের উপর জোর দিয়েছে এবং কিভাবে তা সম্ভব, সেই বিষয়েও কিছু পথ দেখিয়েছে। প্রধান বিচারপতি এমনকি যোগ্য এবং অযোগ্যদের বাছাই করার জন্য ‘মেটা ডেটা’ খুঁজে বের করার কথাও বলেছেন। তিনি বলেন, “এটা না হলে আমরা যোগ্য এবং অযোগ্য তালিকা বাছাই করতে পারব না।”

আদালত জানিয়েছে যে, এসএসসি ‘মিরর ইমেজ’ রাখেনি এবং আসল কপির পরিবর্তে শুধুমাত্র স্ক্যান কপি রয়েছে, যার সাথে এসএসসির দেওয়া নম্বরের মিল নেই। স্ক্যানিংয়েও অনিয়ম হয়েছে বলে আদালত উল্লেখ করেছে। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্না স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করা না গেলে, পুরো প্যানেল বাতিল করতে হবে।”

এসএসসির আইনজীবী জয়দীপ গুপ্ত আদালতের কাছে দাবি করেন যে, আদালতের নির্দেশ পেলে কমিশন যোগ্য ও অযোগ্য ব্যক্তিদের বাছাইয়ের কাজ করবে। তিনি জানান, প্রায় ২৬ লক্ষ প্রার্থী দফায় দফায় পরীক্ষা দিয়েছেন এবং সকলের ওএমআর শিট সংরক্ষণ করা সম্ভব ছিল না। নিয়োগের বিধি অনুযায়ী, এক বছর পর ওএমআর শিট নষ্ট করা যায় এবং ২০২১ সাল পর্যন্ত নিয়োগে কোনো সমস্যা হয়নি বলেও তিনি জানান।

তবে, প্রধান বিচারপতি এসএসসির আইনজীবীকে প্রশ্ন করেন, “আপনি একটি ডকুমেন্ট স্ক্যান করছেন, তার কোনো প্রতিলিপি নিজের কাছে রাখবেন না?” তিনি আরও বলেন যে, যখন স্ক্যানিং হয়েছে, তখন নাইসার (যে সংস্থা ওএমআর মূল্যায়নের বরাত পেয়েছিল) আধিকারিক পঙ্কজ বনসল সেই কাজে যুক্ত ছিলেন, ফলে ডেটার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, “যে ডেটা পাওয়া গিয়েছে, সেটা আসল কি না, কেমন করে বুঝবেন? সার্ভার তো জিরো। আপনার দিক থেকে ম্যানিপুলেশন হয়েছে, এটা প্রমাণিত। নাইসার দিক থেকে হয়েছে কি না, সেটাও প্রমাণ হয়নি।”

শীর্ষ আদালত রাজ্য কেন ‘সুপার নিউমেরারি’ পদ তৈরি করেছিল, সেই বিষয়েও প্রশ্ন তোলে। জবাবে রাজ্যের আইনজীবী জানান যে, এমন পদ তৈরি করা হলেও সেখানে কোনো নিয়োগ হয়নি। এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি একটি মন্তব্য করেন যা এজলাসে হাসির রোল তোলে।

আবেদনকারীদের অন্যতম আইনজীবী পি এস পাটোয়ালিয়া সিবিআই তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সিবিআই পঙ্কজ বনসলের বাড়িতে যে ওএমআর শিট পেয়েছে, সেগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায়? এইভাবে ২৬ হাজার লোকের চাকরি বাতিল করা যায় না। সিবিআই স্ট্যাটাস রিপোর্টকে চূড়ান্ত সত্য বলেও ধরে নেওয়া যায় না।

এই মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী ৭ জানুয়ারি ধার্য করা হয়েছে। আদালতের এই কড়া অবস্থান এবং প্রশ্নবাণে স্পষ্ট যে, যোগ্য ও অযোগ্য প্রার্থীদের পৃথকীকরণ এই মামলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। যদি কমিশন এই বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক প্রমাণ দিতে না পারে, তাহলে পুরো প্যানেল বাতিলের সম্ভাবনা প্রবল।