BigNews: সিগারেট-গুটখার দাম বাড়ছে শিগ্রই, জেনেনিন কত? GST নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত

সিগারেট ও গুটখার দামে বড়সড় বৃদ্ধি, ৩৫% জিএসটি লাগু!
সিগারেট ও গুটখা সেবনকারীদের জন্য দুঃসংবাদ। তামাকজাত পণ্যের উপর পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি)-এর হার ২৮% থেকে বাড়িয়ে ৩৫% করা হয়েছে। এর ফলে সিগারেট, গুটখা সহ সমস্ত তামাকজাত দ্রব্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারে জনসাধারণকে নিরুৎসাহিত করা এবং একই সাথে বর্ধিত করের মাধ্যমে রাজস্ব আয় বৃদ্ধি করা।

২৮% থেকে ৩৫% – করের হারে বড় পরিবর্তন:

এতদিন সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের উপর ২৮% জিএসটি প্রযোজ্য ছিল। সম্প্রতি মন্ত্রীগোষ্ঠী (GoM)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে এই করের হার ৩৫%-এ উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে তামাকজাত পণ্যের দাম একধাক্কায় অনেকটা বেড়ে যাবে।

কবে থেকে বাড়ছে দাম?

আগামী ২১শে ডিসেম্বর থেকে এই নতুন কর হার কার্যকর হবে। অর্থাৎ, ২১শে ডিসেম্বরের পর থেকে সিগারেট ও গুটখা কিনতে ক্রেতাদের বেশি টাকা গুনতে হবে।

‘সিন ট্যাক্স’ – কেন এই কর?

সরকার বরাবরই নেশার দ্রব্য বিক্রির বিপক্ষে। কিন্তু এই সকল পণ্যের চাহিদা থাকায় সরকার এগুলির উপর উচ্চ হারে কর আরোপ করে। এর ফলে একদিকে যেমন দাম বৃদ্ধির কারণে ক্রেতাদের নিরুৎসাহিত করা যায়, তেমনই অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পায়। অর্থনীতিতে এই ধরনের করকে ‘সিন ট্যাক্স’ বলা হয়।

সমস্ত তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব:

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো একটি তামাকজাত দ্রব্যের দাম বাড়িয়ে দিলে ক্রেতারা তুলনামূলকভাবে সস্তা বিকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারে। কিন্তু সেই বিকল্প আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি দাম বাড়াতেই হয়, তাহলে সমস্ত তামাকজাত দ্রব্যের দাম একযোগে বাড়ানো উচিত। এই প্রসঙ্গে দিল্লি এইমস্‌-এর অধ্যাপক ডক্টর অলোক ঠাকুর বলেন, “তামাক-সম্পর্কিত রোগ ভারতের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উপর একটি বিরাট বোঝা। কর বৃদ্ধির ফলে বিশ্বব্যাপী তামাক সেবন কমার উদাহরণ রয়েছে। এটি একটি প্রমাণিত পদ্ধতি।”

বিশ্বের অন্যান্য দেশেও উচ্চ কর:

পশ্চিমের অনেক দেশে সিগারেটের উপর অত্যধিক কর আরোপ করা হয়। কিছু দেশে খোলা সিগারেট বিক্রিও নিষিদ্ধ। এর ফলে ক্রেতাদের পুরো প্যাকেট কিনতে হয়, যা তাদের নিরুৎসাহিত করে। যদিও ভারতে পান-বিড়ির দোকানে এখনো খুচরা সিগারেট বিক্রি হয়।

ডাক্তার প্রীতম বলেন, “হু (WHO)-এর সুপারিশ অনুযায়ী, তামাকের খুচরা মূল্যে কমপক্ষে ৭৫% ট্যাক্স হওয়া উচিত, যেখানে বর্তমানে ভারতে সিগারেটের উপর মাত্র ৫৭.৬% এবং মেশিনে তৈরি বিড়ির উপর ২২% কর প্রযোজ্য।”

ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ক্যান্সার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের বিজ্ঞানী ডঃ প্রশান্ত কুমার সিং জানান, “এই জাতীয় রোগের কারণে ভারতে ২০১৯ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে।”