“আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই…!”-পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে যা বললেন বিদেশ মন্ত্রী

সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে পাকিস্তান সফরে যাচ্ছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর। ফলে এটি হতে যাচ্ছে গত প্রায় ৯ বছরের মধ্যে ভারতের কোনো পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম পাকিস্তান সফর। তবে সফরে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করবেন না বলে জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।

শনিবার (৫ অক্টোবর) সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় এ কথা জানান এস জয়শঙ্কর। সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এ খবর জানিয়েছে।

সাংবাদিকদের জয়শঙ্কর আরো বলেন, দুই দিনের সম্মেলনে পাকিস্তানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার বিষয়ে ‘গণমাধ্যমের আগ্রহ’ থাকবে বলে আশা করছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, এটি একটি বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠান। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে সেখানে যাচ্ছি না আমি।’

এস জয়শঙ্কর বলেন, ‘আমি সেখানে এসসিও-এর একজন সদস্য হিসেবে যাচ্ছি। তবে যেহেতু আমি ভদ্র এবং সভ্য একজন মানুষ, আমি সেই অনুযায়ী আচরণ করব।’

এর আগে শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, ওই সম্মেলনে যোগ দেবেন জয়শঙ্কর। তবে তিনি সম্মেলনের সাইডলাইনে কোনও পাকিস্তানি নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন কিনা, তা উল্লেখ করেনি মন্ত্রণালয়।

আগামী ১৫ এবং ১৬ অক্টোবর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে হবে এসসিও সম্মেলন। সেখানে ভারতের প্রতিনিধি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন জয়শঙ্কর। ২০১৫ সালের পর গত ৯ বছরের মধ্যে এটিই হবে ভারতের কোনও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রথম পাকিস্তান সফর।

গত বছর মে মাসে এসসিও বৈঠকে যোগ দিতে ভারতে এসেছিলেন পাকিস্তানের তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

ভারত-পাকিস্তান ছাড়াও এসসিও-র সদস্য দেশগুলো হল চীন, রাশিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান এবং উজবেকিস্তান। গত বছর এসসিও সম্মেলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ভারত। আর এবছর এ সম্মেলন আয়োজন করছে পাকিস্তান।

এর আগে সবশেষ ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আফগানিস্তান নিয়ে একটি সম্মেলনে যোগ দিতে ইসলামাবাদে গিয়েছিলেন তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।

এর কয়েকদিন পরই লাহোরে আকস্মিক সফরে গিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। সেখানে তিনি পাকিস্তানের তখনকার প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে সাক্ষাত করেছিলেন।

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক সবসময়ই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে চললেও এ সম্পর্ক আরও খারাপ হয় ২০১৯ সালে। ওই বছরে কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাদের ওপর জঙ্গি হামলার পাল্টায় ভারত পাকিস্তানের ভূখন্ডে হামলা শুরু করার কারণে সম্পর্কের অবনতি হয়।