বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধ, ঘোষণা করলো হাসিনা সরকার

বাংলাদেশে জামায়াতে ইসলামী ও তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তৃতীয়বারের মতো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্প্রতি দেশজুড়ে সংঘটিত কোটা আন্দোলনের সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলার জন্য এই দুই সংগঠনকে দায়ী করেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জামায়াত-শিবির সরাসরি ও পরোক্ষভাবে কোটা আন্দোলনে হিংসা ছড়ানোর সাথে জড়িত ছিল। এছাড়াও, এই দুই সংগঠন দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত করার চেষ্টা করেছে। সরকারের হাতে এমন যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।
এর আগে, আওয়ামী লীগসহ ১৪টি রাজনৈতিক দলের এক যৌথ বৈঠকে জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে কোটা আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে এই নিষেধাজ্ঞা দেশের বিভিন্ন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই সরকারের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও অন্যরা একে স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছেন।
বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও তাদের শাখা সংগঠনের যে সব কর্মী ১৯৭১ সালের পর জন্ম নিয়েছেন, তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে গণহারে বিচার করা হবে না। কিন্তু এই দলের অধীনে তাঁরা রাজনীতি করতে পারবেন না। তাঁরা যদি বাংলাদেশের কোনও আইনে অপরাধ করেন, অবশ্যই তাদের বিচার হবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘যে আইনের কথা বলছেন, সেটা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন। সেখানেও আমরা সংশোধনের ব্যবস্থা করেছি। নিষিদ্ধ করার পরও তাকে সাজা দেওয়া যাবে না, এমনটি নয়। তবে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি শাস্তির মধ্যে আসবে না।’