“চন্দ্রপৃষ্ঠের গভীরে রয়েছে গুহা!”-NASA-র বিজ্ঞানীরা পেলো প্রমান

নাসার লুনার রিকনেসেন্স অরবিটার (এলআরও) থেকে পাওয়া রাডার ডেটা বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা চাঁদের অভ্যন্তরে গুহার সন্ধান পেয়েছেন। এই আবিষ্কার চাঁদ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে বসবাসের সম্ভাবনাও উন্মোচিত করবে।

দীর্ঘদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা ধারণা করে আসছিলেন যে চন্দ্রপৃষ্ঠের নীচে টানেলের মতো নেটওয়ার্ক থাকতে পারে। এবার এলআরও-এর রাডার ডেটা তাদের এই অনুমানকে সত্যি প্রমাণ করেছে। চন্দ্রপৃষ্ঠে অবস্থিত এই গুহাগুলির উপরে বেশ কিছু গর্ত লক্ষ্য করা গেছে, যা “স্কাইলাইট” নামে পরিচিত। বিজ্ঞানীদের মতে, ফুটন্ত লাভার কারণেই এই গর্তগুলি সৃষ্টি হয়েছে।

এই আবিষ্কারের গুরুত্ব অপরিসীম। ভবিষ্যতে গবেষণার কাজে এলআরও-র রাডার ডেটা অত্যন্ত সহায়ক হবে। এছাড়াও, চাঁদে বসবাসের পরিকল্পনায়ও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

২০১০ সালে এলআরও-এর মিনি আরএফ যন্ত্র ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা প্রথম একটি গুহা আবিষ্কার করেন। Mare Tranquillitatis-এ অবস্থিত এই গুহাটি ২০০ ফুটেরও বেশি বিস্তৃত। এটি অ্যাপোলো ১১ ল্যান্ডিং সাইটের ৪০০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত। ধারণা করা হচ্ছে, এই গুহাটি চন্দ্রপৃষ্ঠের নীচে কয়েক মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।

এই আবিষ্কারের পর থেকে বিজ্ঞানীরা আরও অনেক গুহার সন্ধান পেয়েছেন। ২০০৯ সালে জাপান অ্যারোস্পেস এক্সপ্লোরেশন এজেন্সির (JAXA) কাগুয়া অরবিটারের মাধ্যমে একটি গর্তের সন্ধান নিশ্চিত করা হয়। এরপর এলআরও-এর তোলা ছবি এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বিশ্লেষণ করে আরও অনেক গুহা আবিষ্কার করা হয়।

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের এলআরও প্রকল্প বিজ্ঞানী নোয়া পেট্রো বলেছেন, “এখন মিনি আরএফ রাডার ডেটার বিশ্লেষণ থেকে আমরা জানতে পেরেছি যে এই গুহাগুলি কতদূর পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে।”

চাঁদে গুহার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে একটি রোমাঞ্চকর আবিষ্কার। এটি আমাদের এই রহস্যময় প্রাকৃতিক উপগ্রহ সম্পর্কে আরও জানতে সাহায্য করবে এবং ভবিষ্যতে সেখানে মানব বসবাসের সম্ভাবনাও উন্মোচিত করবে।