বাংলাদেশে মৃত্যু বেড়ে ১০৫, কার্ফু জারি শহরে, রাস্তায় নামল সেনা

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন তুমুল আকার ধারণ করেছে। বৃহস্পতিবার সরকারিভাবে নিহতের সংখ্যা ছিল ৩২। শুক্রবার তা বেড়ে ১০৫ জনে পৌঁছেছে।
সংবাদমাধ্যম এএফপি ঢাকা মেডিক্যাল কলেজকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, সেখানেই মারা গেছেন অন্তত ৫২ জন। আরও বহু হাসপাতাল থেকে মৃত্যুর খবর আসছে। বেসরকারি মতে সংখ্যাটা আরও বেশি। গুরুতর আহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গেছে ৫০০!
শুক্রবার সারা দিনই সংঘর্ষ, অশান্তি, অগ্নিসংযোগ অব্যাহত ছিল। সম্পূর্ণ বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা।
গত সোমবার থেকে শুরু হওয়া তুমুল ছাত্র আন্দোলনের জেরে অসংখ্য জীবনহানি ও বিশৃঙ্খলতা, অবরোধ-প্রতিবাদের জেরে এ দিন গভীর রাতেই কার্ফু জারি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই কথা জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব নাঈমুল ইসলাম খান সংবাদসংস্থা এএফপি-কে গভীর রাতে বলেন, ‘এই অশান্তির আবহে সরকার এই মুহূর্ত থেকে কার্ফু জারি করল। সব জায়গায় সেনাও নামানো হয়েছে। নাগরিকদের সুরক্ষিত রাখতেই এই পদক্ষেপ।’
তিনি এ-ও জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত না পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত রাজধানী ঢাকা-সহ অন্যত্রও কার্ফু ও সেনা মোতায়েন থাকবে।
রাত সাড়ে বারোটা পাওয়া খবর অনুযায়ী, ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় প্রবল সংঘর্ষ ও ধরপাকড় চলছে। বাংলাদেশের বাইরে বসবাসকারী সে দেশের নাগরিকদের অনেকেই বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সারা দেশে নেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকৃত অবস্থা আর জানা সম্ভব নয়।
একাধিক সূত্রে দাবি, বাংলাদেশকে বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সরকার আন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে। তবে হাসিনা সরকারের পক্ষে এ দিনও জানানো হয়েছে, কোটা সংস্কারে তাদের কোনও আপত্তি নেই। তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এই অগ্নিগর্ভ অবস্থায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ দিন সন্ধেয় ১৪ দলের সর্বদল বৈঠকে দেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
কাল রবিবার সুপ্রিম কোর্ট কোটা সংস্কার মামলার শুনানি করবে।