বিশেষ: সকলের সঙ্গে সহজেই মিশবেন যেভাবে, শিখেনিন জীবনযাত্রার এই বিশেষ দক্ষতা

কর্মজীবন বা পারিবারিক জীবনই হোক, আমাদের নানামুখী মানুষের সান্নিধ্যে যেতে হয়। বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হয়। এসব আলাপচারিতায় নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে হতে হয় কৌশলী। না হলে লোকজন আপনাকে অসামাজিক মনে করতে পারে। তাই মানুষের সঙ্গে আলাপে বা সাক্ষাতে সাবলীল হওয়ার উপায় জেনে নিতে হবে।

ভালো শ্রোতা হবেন
যখন একজন কথা বলেন; তখন তার অবচেতন মন বোঝার চেষ্টা করে, শ্রোতা তা মনোযোগ দিয়ে শুনছেন কি না। এটি মানুষের এক সহজাত প্রবণতা। এর দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যায় যে, আমরা অন্য কাউকে বিরক্ত করছি না বা আঘাত দিচ্ছি না। এ ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক অন্যের অঙ্গভঙ্গি, মুখভঙ্গি এবং আচরণগত অন্য বিষয় লক্ষ্য করতে থাকে। কাজেই যখন অন্যের কথা শুনছেন; তখন চোখ এদিক-ওদিক নেবেন না। তার বক্তব্যকে প্রাধান্য দিন এবং মনোযোগ সহকারে শুনুন। কী শুনছেন তা নয় বরং কীভাবে শুনছেন তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

বলার সুযোগ দিন
যখন আলাপচারিতায় বসবেন; তখন নিজের বিস্তর বলার সুযোগ থাকলেও অন্যকে বলার সুযোগ দেবেন। অধিকাংশ মানুষই তার বক্তব্যের মাধ্যম বাধাপ্রাপ্ত হলে বিরক্ত হন। কেউ যদি আপনার দ্বারা এ উপায়ে বিরক্ত হন, তখন আপনি কখনোই তার বিশ্বস্ততা অর্জন করতে পারবেন না।

মন্তব্যে সতর্ক হোন
সাধারণত কারো বক্তব্যের মাঝে ‘ও আচ্ছা’ বা ‘আহা’ ইত্যাদি দিয়ে শ্রোতা তার ভাব প্রকাশ করেন। এগুলো বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে বিপদ। তা ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়ী আলোচনা বা সভায় এসব মন্তব্য বক্তার কাছে বিরক্তিকর হয়ে ওঠে। কাজেই এ বিষয়ে সাবধান থাকতে হবে।

সর্বজ্ঞানী ভাববেন না
অনেক মানুষই আছেন, যারা নিজেকে মহাজ্ঞানী মনে করেন। কারো সঙ্গে আলোচনায় তা স্পষ্ট করে তুলতে চান। এমন মানুষকে কেউ পছন্দ করেন না। তাই বক্তব্যের বিপরীতে নিজেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাসঙ্গিক কথা বলতে পারেন। কিন্তু এমন ভাব দেখানো উচিত নয় যে, আপনিই সব জানেন।

আগে বলে ফেলুন
যদি দুর্বল মনের অধিকারী হয়ে থাকেন তবে প্রশ্ন থাকলে তা আগেই জিজ্ঞাসা করে ফেলুন। বেশি কথা বলতে গিয়ে এলোমেলো হওয়ার চেয়ে আগে কাজ করে ফেলা ভালো। আলাপচারিতায় আত্মবিশ্বাসী থাকুন এবং আড্ডার ছলে কথা বলে যান। কোনো সভায় বা সেমিনারে প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরার মাধ্যমেও শুরু হতে পারে।

লেখক: মামুন রাফী (ফ্রিল্যান্স ফিচার লেখক)